হজ্জ সম্পর্কে আয়াত ও হাদিস

হজ্জ সম্পর্কে আয়াত ও হাদিস আজকে আলোচ্য বিষয় হজরত ইবরাহিম (আ.) কাবাকে কেন্দ্র করে আল্লাহর নির্দেশিত নিয়মে হজ্জ প্রবর্তন করেন। উম্মতে মুহাম্মাদির ওপর নবম হিজরিতে তা ফরজ করা হয়। শরিয়তের বিধান মোতাবেক নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ। হজ্জ সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নির্দেশনা তুলে ধরা হলো

حج শব্দটি আরবী। এর আভিধানিক অর্থ হল ইচ্ছা করা, দৃঢ় সংকল্প করা, আর পরিভাষায় হজ্ব বলা হয় মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে অর্জনের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ঠ কার্যাবলী সম্পদনের মাধ্যমে বাইতুল্লাহ যিয়ারত করা কে হজ্ব বলে।

Table of Contents

১.হযরত ইব্রাহিম (আ.) মানুষের মাঝে হজ্বের ঘোষণা দিয়েছিলেন

وَ اَذِّنْ فِی النَّاسِ بِالْحَجِّ یَاْتُوْكَ رِجَالًا وَّعَلٰی كُلِّ ضَامِرٍ یَّاْتِیْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِیْقٍ

অর্থ: আর মানুষের নিকট হজ্বের ঘোষনা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্ব প্রকার ক্ষীণকায় উটে চড়ে দূর পথ পাড়ি দিয়ে। (সূরা হজ্ব আয়াত নং ২৭)

২.ইহরাম অবস্থায় শিকার করা জায়েজ নেই

وَحُرِّمَ عَلَیْكُمْ صَیْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِیْۤ اِلَیْهِ تُحْشَرُوْنَ

অর্থ: আর স্থলের শিকার তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে। যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাকো। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার কাছে তোমাদের ফিরে যেতে হবে। (সূরা মায়েদা : ৯৬)

৩.হজ্বের সময় ব্যবসা বাণিজ্য করা জায়েজ আছে

لَیْسَ عَلَیْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَبْتَغُوْا فَضْلًا مِّنْ رَّبِّكُمْ فَاِذَاۤ اَفَضْتُمْ مِّنْ عَرَفٰتٍ فَاذْكُرُوا اللهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاذْكُرُوْهُ کَمَا هَدٰىكُمْ وَ اِنْ كُنْتُمْ مِّنْ قَبْلِ لَمِنَ الضَّآلِّیْنَ

অর্থ: তোমাদের উপর কোন পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ হজ্রে সময় করবে। সুতরাং যখন তোমরা আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন আশআরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্বরণ করবে এবং তাকে স্বরণ করবে যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন যদিও তোমরা এর পূর্বে অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা বাকারা : ১৯৮)

৪.বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করার নির্দেশ

ثُم لْیَقْضُوْا تَفَثَهُمْ وَلْیُوْفُوا نُذُوْرَهُم وَلْیَطَّوَّفُوْا بِالْبَیْتِ الْعَتِیْقِ

অর্থ: তারপর তারা যেন পরিস্কার পরিুছন্ন হয়, তাদের মান্নত সমূহ পূরণ করে এবং প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে। (সূরা হজ্ব : ২৯)

৫.হজ্ব ফরজ হওয়ার পরও হজ্জ না করা

عَنْ عَلَّىٍ رَضِىَ اللهُ  تَعَالِٰى عَنْهُ  قَالَ قَالَ مَنْ  مَلَكَ  زَادَا وَرَاحِلَةً  تُبَلَّغَهُ اِلٰى بَيْتِ اللّٰهِ  وَلَمْ يُحَجَّ فَلاَ عَلَيْهِ اَنْ يَّمُوْتَ يَهُوْدِيَةً اَوْ نَصْرَانِيَّا وَذٰلِكَ اِنَّ اللهَ يَقُوْلُ فِىْ كِتَابِهِ وَ اللهُ عَلَى النَّاسِ حَجُّ الْبَيْتِ مَنِ  اسْتَطَاعَ  اِلَيْهِ سَبِيْلاً

অর্থ: হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা)  ইরশাদ করেছেন যে, ব্যক্তি এ পরিমাণ পাথেয় ও বাহনের মালিক হয়েছে যা তাকে আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। তদুপরি সে হজ্ব আদায় করল না, তাহলে সে ইহুদী কিংবা খ্রীষ্ঠান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, তাতে আল্লাহ তায়ালার কিছু আসে যায় না। আর তা এ কারণে যে, আল্লাহ তার গ্রন্থে আল কুরআনে বলেছেন সামর্থ্যবান লোকদের উপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ্ব আদায় করা ফরজ।(তিরমিযী : ৮১২)

৬.জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ

قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ  قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ ‏مَنْ حَجَّ لِلّٰهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ‏

অর্থ: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)  কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ (হজ্জ) করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে। (বুখারী : ১৫২১)

৭.হজ্জের ফজিলত ও বরকত

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ فَحُجُّوا‏ فَقَالَ رَجُلٌ أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ‏ لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ ثُمَّ قَالَ ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَىْءٍ فَأْتُوا مِنْ.

অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা)  বলেছেন, ইরশাদ করেছেন যে, ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব আদায় করে এবং তা আদায়ের ক্ষেত্রে অশ্লীল কথা কাজ ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে ঐ দিনের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে, তার মাতা যে দিন তাকে ভ‚মিষ্ঠ করেছেন। (বুখারী : ১৫২১, মুসলিম)

৮.হজ্জ এবং ওমরা করলে দরিদ্রতা এবং পাপসমূহ দূর হয়ে যায়

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةً تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ اللهِ وَلَمْ يَحُجَّ فَلَا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا وَذَلِكَ أَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ: وَلِلّٰهِ عَلَى النَّاسِ حَجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِليهِ سَبِيلا.

অর্থ: আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা)  বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ পৌঁছার পথের খরচের মালিক হয়েছে অথচ হজ্জ পালন করেনি সে ইয়াহূদী বা খ্রীস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক এতে কিছু যায় আসে না। আর এটা এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা বলেন মানুষের জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ পালন করা ফরয, যে ব্যক্তি ওখানে পৌঁছার সামর্থ্য লাভ করেছে। (মিশকাত : ২৫২১)

৯.মুহরিমের তালবীয়া পাঠ করা

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يُهِلُّ مُلَبِّدًا يَقُولُ: لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ.

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা)  -কে মাথার চুল জড়ানো অবস্থায় তালবিয়াহ্ বলতে শুনেছি “হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি! আমি তোমার খিদমাতে উপস্থিত হয়েছি। তোমার কোন শারীক নেই। আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। সব প্রশংসা, অনুগ্রহের দান তোমারই এবং সমগ্র রাজত্বও তোমারই, তোমার কোন শারীক নেই।’’(বুখারী শরীফ : ৫৯১৫)

وَلِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الْبَیْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ اِلَیْهِ سَبِیْلًا وَمَنْ کَفَرَ فَاِنَّ اللهَ غَنِیٌّ عَنِ الْعٰلَمِیْنَ

অর্থ: আর এ ঘরে হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য, যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌঁছার। আর যে লোক তা মানেনা। আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না। (সূরা আল ইমরান : ৯৭)

وَ اِذْ بَوَّاْنَا لِاِبْرٰهِیْمَ مَکَانَ الْبَیْتِ اَنْ لَّا تُشْرِكْ بِیْ شَیْئًا وَّ طَهِّرْ بَیْتِیَ لِلطَّآئِفِیْنَ وَ الْقَآئِمِیْنَ وَالرُّکَّعِ السُّجُوْدِ﴿۲۶﴾ وَ اَذِّنْ فِی النَّاسِ بِالْحَجِّ یَاْتُوْكَ رِجَالًا وَّعَلٰی كُلِّ ضَامِرٍ یَّاْتِیْنَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِیْقٍ ﴿۲۷﴾  لِّیَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ وَیَذْكُرُوا اسْمَ اللّٰهِ فِیْۤ  اَیَّامٍ مَّعْلُوْمٰتٍ عَلٰی مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ بَهِیْمَۃِ الْاَنْعَامِ فَكُلُوْا مِنْهَا وَ اَطْعِمُوا الْبَآئِسَ الْفَقِیْرَ

অর্থ: ২৬. যখন ইব্রাহীম কে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম, যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করোনা এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ, তাওয়াফ কারীদের জন্য নামাজে দণ্ডায়মানদের জন্য, এবং রূকু সেজদাকারীদের জন্য। ২৭. এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্য ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেটে এবং সর্ব প্রকার কুশকায়, উটের পিঠে সওয়াব হয়ে দূর দূরান্ত থেকে। ২৮. যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পযর্ন্ত পৌছে, এবং নির্দিষ্ঠ দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে চতুসস্পদ জন্তু যবেহ করার সময় অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর, এবং দু:স্থ অভাবগ্রস্তকে আহার করাও। (সূরা হজ্ব : ২৬-২৮)

فَمَنْ حَجَّ الْبَیْتَ اَوِاعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِ اَنْ یَّطَّوَّفَ بِهِمَا

অর্থ: সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। (সূরা বাকারা : ১৫৮)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ سُئِلَ أَىُّ الْعَملِ أَفْضَلُ فَقَالَ‏ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ‏ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ‏ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ‏ حَجٌّ مَبْرُورٌ‏‏.‏

অর্থ: আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হল কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ এবং তার রাসূলের ওপর ঈমান আনো। জিজ্ঞাসা করা হল তারপর কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হল, তারপর কোনটি। তিনি বললেনঃ মকবূল হাজ্জ। (বুখারী শরীফ : ২৬)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ  فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ سَنَةٍ أَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ ‏ “‏ بَلْ مَرَّةً وَاحِدَةً فَمَنْ زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ ‏”‏.‏

অর্থ: ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আকরা ইবন হাবিস (রাঃ) নবী করীম (সা)  কে জিজ্ঞস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! হজ্জ কি জীবনে প্রতি বছরই ফরয, নাকি জীবনে একবার? তিনি বলেন, বরং (জীবনে) একবার। এর অধিক যদি কেউ করে তবে তা তার জন্য অতিরিক্ত। (আবু দাউদ : ১৭২১)

ওহী কাকে বলে

১০.আল্লাহর জন্য হজ্জ পালন করা

وَاَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَۃَ  لِلّٰهِ

অর্থ: আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্ব ও ওমরাহ পরিপূর্ণভাবে পালন কর। (সূরা বাকারা : ১৯৬)

قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ   قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ حَجَّ لِلّٰهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‏”‏‏.‏

অর্থ: আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সা)  কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে। (বুখারী : ১৫২১)

১১.ওমরা হজ্জ করার আলোচনা

اِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَۃَ مِنْ شَعَآئِرِ اللّٰهِ ۚ فَمَنْ حَجَّ الْبَیْتَ اَوِاعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَیْهِ اَنْ یَّطَّوَّفَ بِهِمَا

অর্থ : নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কাবা ঘরে হজ্জ বা ওমরাহ পালন করে তাদের পক্ষে এ দুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। (সূরা বাকারা : ১৫৮)

وَاَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَۃَ  لِلّٰهِ

অর্থ : আর তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্ব এবং ওমরাহ পরিপূর্ণভাবে পালন কর। (সূরা বাকারা : ১৯৬)

১২.রমজান মাসে ওমরা করলে হজ্জের সমান সওয়াব পাবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ‏ “‏عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏”‏ ‏.‏

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা)  বলেছেন, রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য। (সুনানে মাজাহ : ২৯৯৪)

১৩.ইহরামের আলোচনা

يَااَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَوْفُوْا بِالْعُقُوْدِ اُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِیْمَۃُ الْاَنْعَامِ  اِلَّا مَا یُتْلٰی عَلَیْكُمْ غَیْرَ مُحِلِّی الصَّیْدِ وَاَنْتُمْ حُرُمٌ

অর্থ : হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকার সমূহ পূর্ণ করো। তোমাদেও জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে। যা তোমাদেও কাছে বিবৃত হতে হবে তা ব্যতিত কিন্তু ইহরাম বাধা অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করো না। (সুরা মায়েদা : ১)

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ عَلِيٍّ حِينَ أَمَّرَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى الْيَمَنِ قَالَ فَأَصَبْتُ مَعَهُ أَوَاقِيَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَجَدَ فَاطِمَةَ –  – قَدْ لَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا وَقَدْ نَضَحَتِ الْبَيْتَ بِنَضُوحٍ فَقَالَتْ مَا لَكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَدْ أَمَرَ أَصْحَابَهُ فَأَحَلُّوا قَالَ قُلْتُ لَهَا إِنِّي أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ ‏.‏ قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ  فَقَالَ لِي كَيْفَ صَنَعْتَ‏.‏ فَقَالَ قُلْتُ أَهْلَلْتُ بِإِهْلاَلِ النَّبِيِّ.

অর্থ: হযরত বারা ইবনে আযেব (রা) বলেন, হুজুর (সা)  ইরশাদ করেছেন, হযরত আলী (রা) কে ইয়ামানের গর্ভণর করে পাঠালেন তখন আলী (রা) -এর সাথে ছিলাম এবং আমি আলী (রা) এর সাথে কয়েক উকিয়া স্বর্ণ অর্জন করে ছিলাম। হযরত আলী (রা) যখন বিদায় হজ্বের সময়) ইয়ামান থেকে হুজুর সে এর নিকট আসলেন, হযরত আলী (রা) বলেন, আমি ফাতেমা (রা) কে এই অবস্থায় পেলাম যে সে রঙ্গীন কাপড় পরিধান করেছে, এবং নাবুহ দ্বারা ঘরকে সুগন্ধিময় করেছে। ফাতেমা (রা) আপনার কি হয়েছে আপনি এখনও কেন ইহরাম বেধে হালাল হননি, কেননা রাসূল (সা)  তার সাহাবীদের হালাল হওয়ার আদেশ করেছেন। যারা সাথে হাদী নিয়ে আসেনি। আমি তাকে বললাম আমি ইহরাম বেঁধেছি যেমন রাসূল (সা)  বলেছেন, ইহরাম বেঁধেছেন, হযরত আলী (রা) বলেন, আমি রাসূল (সা)  বলেছেন, -এর নিকটে আসলাম তখন রাসূল আমাকে বলেছেন, তুমি কিরূপ ইহরাম বেঁধেছে। বললাম আমি রাসূল (সা) বলেছেন, এর ন্যায় ইহরাম বেঁধেছী। (আবু দাউদ : ১৭৭৯)

১৪.হজ্ব করার সময় যে সকল কাজ করা নিষেধ

يٰا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنْوْا لَا تَقْتُلُوْ الصَّيْدَ وَاَنْتُمْ حُرُمٌ 

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ইহরাম কারীদের জন্য হারাম করা হয়েছে, স্থল শিকার, যতক্ষণ ইহরাম অবস্থায় থাক। (সূরা মায়েদা : ৯৫)

اَ لْحَجُّ اَشْهُرٌ مَّعْلُوْمٰتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِیْهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوْقَ  وَلَا جِدَالَ فِی الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَیْرٍ یَّعْلَمْهُ اللهُ  وَتَزَوَّدُوْا فَاِنَّ خَیْرَ الزَّادِ التَّقْوٰی وَاتَّقُوْنِ یٰۤاُولِی الْاَلْبَابِ

অর্থ: হজ্বের সময় নির্দিষ্ঠ মাসমূহ অতএব মাস সমূহে যে নিজের উপর হজ্ব আরোপ কওে নিল তার জন্য হজ্বে অশ্লীল ও পাপ কাজ এবং ঝসড়া বিবাদ বৈধ নয়  আর তোমরা ভালো কাজ যা করো আল্লাহ তা জানেন, এবং পাথেয় গস্খহণ কর। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় তাকওয়া। আর হে বিবেক সম্পন্নজন তোমরা আমাকে ভয় করো। (সূরা বাকারা : ১৯৭)

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ  قَالَ لاَ يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَلاَ يُنْكَحُ وَلاَ يَخْطُبُ.‏

অর্থ: উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা)  বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি না বিবাহ করবে, না বিবাহ করাবে, আর না বিবাহের প্রস্তাব দিবে। (মিশকাত : ২৬৪১)

إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرَى إِلا حطَّ اللّٰهُ عنهُ بهَا خَطِيئَة وكتبَ لهُ بهَا حَسَنَة.

অর্থ: নিশ্চয়ই এদের স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারাহ্। আমি তাঁকে (সা) -কে আরো বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবে ও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, তবে তা তার জন্য গোলাম মুক্ত করে দেবার সমতুল্য হবে। এটা ছাড়াও তাঁকে ইবনু উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, কোন লোক এতে এক পা ফেলে অপর পা উঠানোর আগেই বরং আল্লাহ তাআলা তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন ও তার জন্যে একটি সাওয়াব নির্ধারণ করেন। (মিশকাত : ২৫৮০)

হজ্জ সম্পর্কে কতিপয় মাসআলা

প্রত্যেক সামর্থ্যবান প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর এটা ফরজ। হজ্ব অস্বীকারকারী কাফের।

হজ্জের ফরজ ৩টি

১. মীক্বাত হতে ইহরাম বাঁধা।

২. যিলহজ্বের ৯ তারিখ যোহরের পর হতে ১০-ই যিলহজ্ব এর সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত উকুফে আরাফা তথা আরাফার প্রান্তরে অবস্থান করা।

৩. ১০, ১১ ও ১২ যিলহজ্বের তারিখ সুর্যাস্তের পূর্বে কাবা শরীফের তাওয়াফে যিয়ারত করা।

হজ্জের ওয়াজিব ৫টি

১. যিলহজ্বের ৯ তারিখ সূর্যাস্তের পর থেকে পরবর্তি বাদ ফজর সূর্যোদয়ের পুর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মুযদালিফায় প্রান্তরে অবস্থান করা।

২. সাফা মারওয়া পাহাড় দু’টির মাঝখানে সাঈ করা।

৩. মিনাতে শয়তানের উদ্দেশ্যে কংকর মারা।

৪. ইহরাম খোলার জন্য মাথা মুন্ডানো বা ছাটানো।

৫. বিদায়ী তাওয়াফ করা মীকাতের বাহিরের বাসিন্দাদের জন্য

হজ্জের সুন্নাত ও মুস্তাহাব ১০টি

১. তাওয়াফে কুদম করা বা হজ্বের ইনফরাদ এবং হজ্বে কিরানোর জন্য)

২. তাওয়াফে কুদুসের প্রথম তিন চক্করে রমল করা। আর তাওযাফে কুদুমে রমল না করে থাকলে তাওয়াফে যিয়ারতে রমল করা।

৩. ৮ই যিলহজ্ব মক্কা হতে মিনায় গিয়ে যোহর আসর মাগরিব ইশা ও ফজর এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং রাতে মিনায় অবস্থান করা

৪. ৯ই যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর মিনা হতে আরাফার ময়দানের দিকে রাওয়ানা হওয়া

৫. ওকুফে আরাফার পর তথা হতে সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার দিকে রাওয়ানা হওয়া

৬. ৯ ই জ্বিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে মুযদালিফায় থাকা।

৭. ওকুফে আরাফার জন্যে সেদিন যোহরের পূর্বে গোসল করা।

৮. ১০, ১১, ১২, যিলহজ্ব দিবাগত রাত্রগুলোতে মিনায় থাকা

৯. মিনা হতে বিদায় হয়ে মক্কায় ফিরার পথে মুহাসার নামক স্থানে কিছু সময় অবস্থান করা।

১০. ইমামের জন্য তিন স্থানে খুতবা দেয়া।

 (৭ ই যিলহজ্ব মক্কা শরীফে, ৯ ই যিলহজ্ব আরাফায় ও ১১ ইযিলহজ্ব মিনায়।) (ফাতওয়ে আলমগীরি ১/৩১৯, ফতওয়ে শামী ২/৪৬৮)

১ নং মাসয়ালা :

পেনশনের টাকা দ্বারা হজ্ব করা যাবে কি না?

উত্তর: পেনশনের টাকা সর্বসম্মতিক্রমে হালাল। এত কোন খারাবী বা গুনাহ নেই। তাই এটা দ্বারা গ্রহণ করা যাবে এবং এর দ্বারা হজ্বও আদায় করা যাবে।

২ নং মাসআলা :

কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ ক্যাশ না থাকে, বরং জমি জমা, ব্যবসা সামগ্রী থাকলে কি হজ্ব ফরজ হবে?

উত্তর : হ্যাঁ প্রয়োজন হতে অতিরিক্ত নগদ ক্যাশ না থাকলেও কোন ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরজ হতে পারে। যেমন কোন ব্যক্তির নিকট অতিরিক্ত জমা জমি, প্লট ও ব্যবসার সামগ্রী ইত্যাদি রয়েছে, তা হতে কিছু বিক্রি করলে হজ্বের খরচ হয়ে যায়, এবং অবশিষ্ঠ দ্বারা উক্ত ব্যক্তি ফিরে আসা পর্যন্ত নিজ পরিবার পরিজনের প্রয়োজনীয় হাজত পূর্ণ হয়ে যাবে। তাহলে এমন সব ব্যক্তি বর্গের উপর উক্ত সম্পদ বিক্রি করে হজ¦ করা ফরজ। সুতরাং নগদ ক্যাশ হাতে না থাকলেও হজ্ব ফরজ হতে পারে।