হজ্জের ফরজ কয়টি ও কী কী

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো “হজ্জের ফরজ কয়টি ও কী কী” আমাদের জেনে রাখা উচিৎ হবে যে হজ্জ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই আর্থিকভাবে সামর্থবান প্রতিটি মুসলমানের জন্য হজ্জ জীবনে একবার হলেও ফরজ।

হজের ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নত-মুস্তাহাব ও তালবিয়া ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

হজ্জের ফরজ হলো ৩টি

(১) ইহরাম (একটু টুকরা সিলাই বিহীন সাদা কাপড়) বাধা। 

(২) আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। 

(৩) কাবা ঘর তাওয়াফ করা।

হজ্জের ওয়াজিব হলো ৬টি

(১) সাফা এবং মারওয়া পাহাড়দ্বয় ৭ বার সায়ি (চক্কর) করা।
(২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যদয় পর্যন্ত একমুহূর্তের জন্য হলেও মুযদালিফায় অবস্থান করা।)
(৩) মিনায় জামারায় (তিন শতানের অবস্থান খুটিতে) পাথর নিক্ষেপ করা।
(৪) হজ্জে তামাত্যু ও হজ্জে কিবরান কারীরা হজ্জ শেষ করার জন্য কোরবানি করা।
(৫) ইহরাম (একটু টুকরা সিলাই বিহীন সাদা কাপড়) খোলার পূর্বে মাথার চুল কাটা।
(৬) মক্কার বাহিরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদাআ তথা মক্কা থেকে বিদায়কালের তাওয়াফ করা।

হজ্জ সম্পর্কে আয়াত ও হাদিস

হজ্জের ফরজ কয়টি ও কী কী

হজ্জের সুন্নতসমূহ

হজ্জের ফরজ ও হজ্জের ওয়াজিব ব্যতীত বাকি সব আমল সুন্নত। হজ্জের অনেক সুন্নত বিদ্যমান। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো।
(১) ইহরামের (একটু টুকরা সিলাই বিহীন সাদা কাপড়) পূর্বে গোসল করা
(২) পুরুষদের জন্য সাদা কালারের ইহরামের কাপড় পড়া সুন্নত।
(৩) তালবিয়াহ (লাব্বাইক) পাঠ করা।

তালবিয়া (লাব্বাইক পাঠ করা) পাঠ ফরজ বা ওয়াজিব কোনটাই নয়। তবে এটি সুন্নত। যদিও এই নিয়ে বিভিন্ন মতবেদ বিদ্যমান। হানাফি ইমামদের মতে এহরাম বাধার সময় তালবিয়া কিংবা অন্য যে কোনো জিকির একবার পড়া ফরজ আর একাধিকবার পাঠ করা সুন্নত।

لَبَّيكَ اللَّهُمَّ لَبَّيكَ لَبَّيكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيكَ إِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعمَةَ لَكَ وَالمُلكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক লাব্বাইক, লা-শারিকা-লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারিকালাক।

অর্থ : আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই।

(৪) ৮ যিলহজ্জ দিবাগত রাতে মিনায় অবস্থান করা।
(৫) ছোট ও মধ্যম জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করে দু‘আ করা।
(৬) কিরান ও ইফরাদ হাজীদের তাওয়াফে কুদূম করা।
তবে কোন কারণে সুন্নত ছুটে গেলে দম (পশু কুরবানী) দিতে হয় না।

ইহরাম বাধা অবস্থায় যেসব কাজ করা নিষেধ


(১) শিকার করা।
(২) ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা।
(৩) চুল-দাড়িতে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে তা ছিঁড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
(৪) শরীরে সাবান লাগানো।
(৫) কোনো জীবজন্তু প্রাণীকে হত্যা করা, হোক তা উকুন কিংবা মশা মাছি।
(৬) কোনো গুনাহের কাজ করা।

(৭) সেলাইযুক্ত যে কোনো কাপড় বা জুতা ব্যবহার করা।
(৮) মাথা ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড় দিয়ে কিংবা অন্য কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা।
(৯) পায়ের উপরিভাগ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।
(১০) চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা।
(১১) নখকাটা।
(১২) সুগন্ধি যুক্ত তেল বা আতর ব্যবহার করা।
(১৩) স্ত্রী সহবাস করা।
(১৪) যৌন উত্তেজনামূলক আচরণ করা বা কথা বলা।