ইখলাস ও নিয়ত কাকে বলে?

اخلاص শব্দের অর্থ হলো, সততা,আন্তরিকতা ও বিশুদ্ধতা,কিংবা নিষ্ঠারসাথে কাজ করা। আর পরিভাষায় ইখলাস বলা হয়,একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন কাজ করাকে ইখলাস বলে, কিংবা সহিহ নিয়ত বলে।
আর শরিয়তে এই ইখলাসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কেননা ইখলাস ব্যতীত কোন আমলই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়না। আর বিশুদ্ধ নিয়ত এবং ইখলাস হচ্ছে সকল আমলের রূহ। রূহ ছাড়া একটা শরীর বা দেহের যেমন কোন মূল্য নেই, তেমনিভাবে বিশুদ্ধ নিয়ত বা ইখলাস ছাড়া আমলেরও কোন মূল্য নেই। সুতরাং আমল হতে হবে রিয়া মুক্ত, একনিষ্ঠ আল্লাহর জন্য। নাম কামের জন্য দান সদকা, নামায, ও হজ্ব আদায় করলে সেটা আদায় হবে না।

Table of Contents


১.ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই হওয়া চাই


اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّمَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِکِیْنَ ﴿۷۹﴾

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি নিবিষ্ট করেছি আমার চেহারা একনিষ্ঠভাবে তার জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। (সূরা আনআম : ৭৯)


২.ইখলাসের সাথে আল্লাহকে ডাকার নির্দেশ


قُلْ اَمَرَ رَبِّیْ بِالْقِسْطِ وَ اَقِیْمُوْا وُجُوْهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَّادْعُوْهُ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ ۬ؕ کَمَا بَدَاَكُمْ تَعُوْدُوْنَ﴿۲۹﴾

অর্থ: বলুন, আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের চেহারা সোজা রাখবে, এবং তারই ইবাদতের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে (এখলাসের সাথে) তাকে ডাকবে। যেভাবে তিনি তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে তোমরা প্রথম ফিরে আসবে। (সূরা আরাফ : ২৯)


৩.ইখলাসের সাথে ইবাদত করার নির্দেশ


اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْکِتٰبَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَ﴿۲﴾ اَلَا لِلّٰهِ الدِّیْنُ الْخَالِصُ وَالَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِیَآءَ مَا نَعْبُدُهُمْ اِلَّا لِیُقَرِّبُوْنَاۤ اِلَی اللّٰهِ زُلْفٰی اِنَّ اللهَ یَحْكُمُ بَیْنَهُمْ فِیْ مَا هُمْ فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ اِنَّ اللهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ هُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ ﴿۳﴾

অর্থ: ২. আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যতা সহকারে অবতীর্ণ করেছি। সুতরাং তুমি আল্লাহর ইবাদত করো, তার আনুগত্য বিশুদ্ধ চিত্ত হয়ে। ৩. জেনে রেখো, আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ ইবাদত আনুগত্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে, আমরা কেবল এই জন্যই তাদের ইবাদত করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তি করে দেবে। যে, বিষয়ে তারা মতভেদ করছে, আল্লাহ নিশ্চয়ই সে ব্যাপারে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী কাফির নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না। (সূরা যুমার : ২-৩)


৪.মুসলিম বান্দারা আল্লাহর কাছে অবশ্যই পুরষ্কার পাবে


بَلٰی مَنْ اَسْلَمَ وَجْهَهٗ لِلّٰهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهٗۤ اَجْرُهٗ عِنْدَ رَبِّهٖ وَلَا خَوْفٌ عَلَیْهِمْ وَلَا هُمْ یَحْزَنُوْنَ ﴿۱۱۲﴾

অর্থ: হ্যাঁ যে, ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে, এবং সে সংকর্মশীল ও বটে, তার জন্য তার পালনকর্তার নিকট অবশ্যই পুরস্কার রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই, এবং তারা দুঃখিতও হবে না।(সূরা বাকারা : ১১২)


৫.আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, অতএব ইবাদত একমাত্র তাঁর জন্যই হতে হবে


وَمَا لِیَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِیْ فَطَرَنِیْ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ﴿۲۲﴾ ءَاَتَّخِذُ مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اٰلِهَۃً اِنۡ یُّرِدۡنِ الرَّحۡمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغۡنِ عَنِّیۡ شَفَاعَتُهُمۡ شَیۡئًا وَّ لَا یُنۡقِذُوۡنِ ﴿ۚ۲۳﴾ اِنِّیْۤ اِذًا لَّفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ﴿۲۴﴾

অর্থ: ২২. আর আমি কেন তার ইবাদত করবনা, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? আর তার কাছেই তোমাদের কে ফিরিয়ে নেয়া হবে। ২৩. আমি কি তাঁর (আল্লাহ) পরিবর্তে অন্য ইলাহ (উপাসক) গ্রহণ করবো? যদি পরম করুণাময় আমার কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবেনা। ২৪. এরূপ করলে নিশ্চয়ই আমি স্পষ্ট বিভ্রাতিতে পতিত হবো। (সূরা ইয়াসিন : ২২-২৪)


৬.নিয়ত খারাপ হলে পরকালে জাহান্নামে যেতে হবে


مَنْ کَانَ یُرِیْدُ الْعَاجِلَۃَ عَجَّلْنَا لَهٗ فِیْهَا مَا نَشَآءُ لِمَنْ نُّرِیْدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهٗ جَهَنَّمَ یَصْلٰىهَا مَذْمُوْمًا مَّدْحُوْرًا ﴿۱۸﴾ وَ مَنْ اَرَادَ الْاٰخِرَۃَ وَسَعٰی لَهَا سَعْیَهَا وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَاُولٰٓئِكَ کَانَ سَعْیُھُمْ مَّشْكُوْرًا ﴿۱۹﴾

অর্থ: আর যে, ব্যক্তি দুনিয়া চায়, আমি তাকে দুনিয়াতে যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু সত্বর দিয়ে দিচ্ছি। অতঃপর তার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি। সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়। আর যে, ব্যক্তি পরকাল চায় এবং মুমিন অবস্থায় তার জন্য যথাযথ চেষ্টা সাধনা করে তথা আমল করে, এমন লোকদের প্রচেষ্টা আমল কবুল হয়। (সূরা বনি ইসরাঈল : ১৮-১৯)

মুশরিক কাকে বলে? আলোচনা-আয়াত হাদিস


৭.দুনিয়ায় নিয়ত করলে শুধু দুনিয়াতেই অল্প পাবে


وَمَا کَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تَمُوْتَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ کِتٰبًا مُّؤَجَّلًا وَمَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الدُّنْیَا نُؤْتِهٖ مِنْهَا وَمَنْ یُّرِدْ ثَوَابَ الْاٰخِرَۃِ نُؤْتِهٖ مِنْهَا وَسَنَجْزِی الشّٰکِرِیْنَ ﴿۱۴۵﴾

অর্থ: একথা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে যে, কোন প্রাণীই আল্লাহর হুকুম ব্যতীত ইন্তেকাল করে না। আর যে, ব্যক্তি দুনিয়াতে আমলের বদলা কামনা করবে, তাকে দুনিয়াতেই তা দিয়ে দিবো। আর যে, ব্যক্তি পরকালের সাওয়াব কামনা করবে, আমি তাকে পরকালে দিবো, আর যারা কৃতজ্ঞ তাদের আমি পুরস্কার দিবো। (সূরা আল ইমরান : ১৪৫)


৮.আখেরাতের উদ্দেশ্যে আমল করলে তা কবুল হবে


وَ مَنْ اَرَادَ الْاٰخِرَةَ وَمَعٰى لَهَا سَعْيَهَا وَلَهُوْ مُؤْمِنٌ فَاُؤْلٰئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْْكُوْرًا

আর যে ব্যক্তি আখিরাত কামনা করে আর তার জন্য চেষ্টা করে যতখানি চেষ্টা করা দরকার আর সে মু’মিনও, এরাই হল তারা যাদের চেষ্টা সাধনা সাদরে গৃহীত হবে। (সুরা বনি ইসরাঈল : ১৯)


৯.দুনিয়ার উদ্দেশ্যে আমল করলে পরকালে কিছুই পাবে না


مَنْ کَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الْاٰخِرَۃِ نَزِدْ لَهٗ فِیْ حَرْثِهٖ وَ مَنْ کَانَ یُرِیْدُ حَرْثَ الدُّنْیَا نُؤْتِهٖ مِنْهَا وَمَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَۃِ مِنْ نَّصِیْبٍ ﴿۲۰﴾

অর্থ: যে ব্যক্তি আখিরাতের ফসল কামনা করে আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃত্তি দান করি। আর যে, ব্যক্তি দুনিয়ার ফসল কামনা করে আমি তাকে তা থেকে কিছু দিই এবং আখেরাতে তার জন্য কোন অংশই থাকবেনা। (সূরা শুরা : ২০)


১০.ইখলাস ব্যতীত কোন আমলই কবুল হবেনা


عَنْ أَبِىْ اُمَامَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ إِنَّ اللّٰهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ

অর্থ: হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা সমস্ত আমলের মধ্যে সেই আমল টুকুই কবুল করেন, যা খালেসভাবে শুধুমাত্র তার সন্তুষ্টির জন্যই করা হয়। (সহীহ নাসাঈ : ৩১৪০)


১১.ইখলাসের সাথে কালিমা পাঠ করার ফজিলত প্রসঙ্গে


عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ مَا قَالَ عَبْدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللّٰهُ مُخْلِصًا قَطُّ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, কোন বান্দা যদি ইখলাসের সাথে কালেমা لا َاِلٰهَ اِلاَّ اللّٰهُ পাঠ করে তবে তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয।(মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৩১৪)


১২.ইখলাসের সাথে আমল করলে ১০ হতে ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব পাওয়া যায়


عَنْ اَِبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلاَمَهُ فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ بِمِثْلِهَا حَتَّى يَلْقَى اللّٰهَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের মধ্যে যে তার ইসলামে নিষ্ঠাবান হয় তার কৃত প্রত্যেকটি নেক কাজের বিনিময়ে দশ থেকে সাতশ গুন পর্যন্ত সাওয়াব লেখা হয়। পক্ষান্তরে তার কৃত প্রত্যেকটি বদ কাজের বিনিময়ে তদনুরুপ লেখা হয়। (মৃত্যুর মাধ্যমে) আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকবে। (সহীহ মুসলিম : ১২৯)


১৩.লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করলে শিরক হবে


وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ : “مَنْ صَلَّى يُرَائي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ صَامَ يُرَائي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ تَصَدَّقَ يُرَائي فَقَدْ أَشْرَكَ”

অর্থ : শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, যে লোক মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে, সে শিরক করল। যে দেখানোর নিয়্যাতে সিয়াম রাখল সে শিরক করল, আর যে দেখানোর জন্য দান করল সেও শিরক করল। আর যে দেখানোর জন্য সদা-দান করল সেও শিরক করল। (মিশকাত : ৫৩৩১)


১৪.নিয়ত অনুযায়ী মানুষের হাশর হবে


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ إِنَّمَا يُبْعَثُ النَّاسُ عَلٰى نِيَّاتِهِمْ

অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন নিশ্চয়ই (কিয়ামতে দিবসে) মানুূষদের কে উঠানো হবে তাদের নিয়তের উপর। (ইবনে মাজাহ শরীফ : ৪২২৯)


১৫.আল্লাহ শুধু মানুষের অন্তরের অবস্থাই দেখেন


عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ إِنَّ اللهَ لاَ يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوْبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ ‏

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালার তোমাদের বাহ্যিক আকার আকৃতি এবং তোমাদের ধন- সম্পদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না, বরং তিনি দৃষ্টিপাত করেন শুধু তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি! (ইবনে মাজাহ : ৪১৪৩)


১৬.সহিহ নিয়ত ছাড়া কোন আমলেরই দাম নেই


عَنْ عُمَرَ بِنْ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِى ﷺ إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ وَمَنْ كَانَت هِجرَتُه لِدُنيَا يُصِيْبُهَا أَوْ امرَأَةٍ يَنكِحُهَا فَهِجرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ

অর্থ : হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই সমস্ত আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক মানুষ পরকালে তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহ এবং তার রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে আর যে, ব্যক্তি দুনিয়া হাসিলের কিংবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যে গণ্য হবে, যে উদ্দেশ্য সে হিজরত করে। (বুখারী শরীফ : ১)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা : যে কোন ভালো কাজের পূর্বে নিয়ত বিশুদ্ধ করে নেয়া জরুরী। কেননা যত ভাল আমলই হোকনা কেন তা যদি নিয়তের মধ্যে গরমিল থাকে তাহলে কোন সাওয়াব পাওয়া যাবেনা।


১৭.নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে


اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَیْكَ الْکِتٰبَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللهَ مُخْلِصًا لَّهُ الدِّیْنَ﴿۲﴾

অর্থ: আমি আপনার প্রতি এ কিতাব যথার্থরূপে অবতীর্ণ করেছি, অতএব আপনি নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করুন। (সূরা যুমার : ২)


১৮.ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য করবে


وَ مَاۤ اُمِرُوْۤا اِلَّا لِیَعْبُدُوا اللهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ حُنَفَآءَ وَ یُقِیْمُوا الصَّلٰوۃَ وَ یُؤْتُوا الزَّکٰوۃَ وَ ذٰلِكَ دِیْنُ الْقَیِّمَۃِ﴿۵﴾

অর্থ: তারা তো আদিষ্ঠ হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে যে, তারা যেন, আল্লাহর ইবাদত করে তারই জন্য দ্বীন কে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে আর এটিই হল সঠিক দ্বীন। (সূরা বায়্যিনাহ : ৫)

হাফেজী কুরআন শরীফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *