ঈমান সম্পর্কে আয়াত হাদীস

আজ আমরা জানবো ঈমান সম্পর্কে আয়াত হাদীস: اِيْمَانْ একটি আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো, বিশ্বাস স্থাপন করা, নিরাপত্তা দেয়া, কোন কিছুকে সত্য বলে মেনে নেয়া ইত্যাদি। ঈমানের পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানে ইমাম আবু হানিফা (র) বলেন। ঈমানের পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদানে মুহাদ্দিসগণ বলেন-


هُوَ اَلتَّصْدِيْقُ بِالْجِنَانِ وَالْاِقْرَارُ بِاللِّسَانِ وَ الْعَمَلُ بِالْاَرْكَانِ


অর্থ : অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকারোক্তি ও আরকানসমূহ কর্মে পরিণত করার সমষ্টিকে ঈমান বলে।
সর্বোপরি, আল্লাহ, নবী-রাসূল ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং সে অনুযায়ী আমলে করার নাম ঈমান। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে মুখে স্বীকার করে ও সে অনুযায়ী আমল করে তাকে মুমিন (مُؤْمِنٌ) বা বিশ্বাসী বলা হয়।
মানুষের অন্তরে ঈমানের জন্ম এবং সেখানের অবস্থান। ঈমান হলো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রধান স্তম্ভ। ঈমান পাকাপোক্ত না হলে মুমিন হতে পারে না। অন্তরে দৃঢ় ঈমান না থাকলে শুধু মৌখিক স্বীকৃতি ও আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। সৎকর্ম দ্বারা ঈমান শক্তিশালী ও অন্তরে আলোকিত হয়। আর অসৎকাজে ঈমান দুর্বল ও অন্তরে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নিম্নে কিছু ঈমান সম্পর্কে আয়াত হাদীস আলোচনা করা হয়েছে

Table of Contents


যে ৭টি বিষয়ের উপর ঈমান আনতে হবে


ঈমানে অগণিত শাখা-প্রশাখা আছে। কুরআন ও হদীসে ইসলামের মৌলিক সাতটি বিষয়ের প্রতি ঈমান আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মুমিন হতে হলে এসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসের মৌখিক ঘোষণা দিতে হবে এবং সেই বিশ্বাসের আলোকে তা জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। কেউ এ সাতটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটিও অবিশ্বাস এবং অস্বীকার করলে মুমিন বা মুসলিম হতে পারবে না। তাই ঈমানদার প্রত্যেকের ওপর এ সাতটি বিসয়ে ঈমান আন ও ঈমানের ঘোষণা দেওয়া ফরয। পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন আয়াত এবং অসংখ্য হাদীসের মাধ্যমে ঈমানরে মৌলিক সাতটি বিষয়ের বিবরণ পাওয়া যায়।

 اٰمَنَ الرَّسُولُ بِمَاۤ اُنزِلَ اِلَیهِ مِن رَّبِّ وَ المُؤمِنُونَ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلئِکَتِه وَ کُتُبِه وَ رُسُلِه لَا نُفَرِّقُ بَینَ اَحَدٍ مِّن رُّسُلِه وَ قَالُوا سَمِعنَا وَ اَطَعنَا غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیکَ المَصِیرُ

অর্থ: রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেক ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না, আর তারা (মুমিনরা) বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবো। -(সূরা বাকারা : ২৮৫)


لَيسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُم قِبَلَ الْمَشرِقِ وَالمَغرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَن آمَنَ بِاللّٰهِ وَالْيَومِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ


অর্থ: তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল পূর্ব বা পশ্চিম দিকে প্রত্যাবর্তিত করার মধ্যে কোন ছাওয়াব নেই; বরং পূণ্য তার, যে ব্যক্তি আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (সূরা বাকারা : ১৭৭)


اٰمَنْتُ بِاللّٰهِ وَمَلٰئِكَتِه وَكُتُبِه وَرُسُلِه وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْقَدْرِ خَيْرِه وَشَرِّه مِنَ اللّٰهِ تَعَالٰى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ

অর্থ: আমি ঈমান আনলাম- ১. আল্লাহর প্রতি, ২. তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, ৩. তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, ৪. তাঁর রাসূলগণের প্রতি, ৫. আখিরাত দিবসের প্রতি, ৬. তাকদীরের প্রতি ৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।


মুমিন নর নারী একে অপরের বন্ধু


وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنٰتُ بَعْضُهُمْ اَوْلِیَآءُ بَعْضٍ یَاْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْکَرِ وَ یُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤْتُوْنَ الزَّکٰوۃَ وَیُطِیْعُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ اُولٰٓئِكَ سَیَرْحَمُهُمُ اللهُ اِنَّ اللهَ عَزِیْزٌ حَکِیْمٌ ﴿۷۱﴾

অর্থ: আর মুমিন পুরুষরাও মুমিন নারীরা হচ্ছে পরষ্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, এবং অসৎ হতে নিষেধ করে, আর নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা : ৭১)
৩.মুমিন নর-নারীর জন্য বেহেশতের অঙ্গিকার

وَعَدَ اللهُ الْمُؤْمِنِیْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَمَسٰکِنَ طَیِّبَۃً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ

অর্থ: আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও নারীদেরকে এমন জান্নাত সমূহের ওয়াদা দিয়ে রেখেছেন যেগুলো নি¤œদেশে বইতে থাকবে নহরসমূহ সেখানে তারা অনন্তকালে থাকবে, আরও (ওয়াদা দিয়েছেন) উত্তম বাসস্থান সমূহের যা আদন নামক জান্নাতের মাঝে অবস্থিত। আর আল্লাহ সন্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় নিয়মিত, এটা হচ্ছে অতি বড় সফলতা। (সূরা তাওবা : ৭২)

মুমিনদের অবশ্যই পরীক্ষা করা হবে


الٓمّٓ ﴿۱﴾ اَحَسِبَ النَّاسُ اَنْ یُّتْرَكُوْۤا اَنْ یَّقُوْلُوْۤا اٰمَنَّا وَهُمْ لَا یُفْتَنُوْنَ ﴿۲﴾ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَیَعْلَمَنَّ اللهُ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَ لَیَعْلَمَنَّ الْکٰذِبِیْنَ

অর্থ: ১. আলীফ লাম মীম ২. মানুষ কি মনে করে থাকে যে, আমরা ঈমান এনেছি, একথা বললেই কি তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেয়া হবে? ৩. আমি তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করে ছিলাম। আর আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন কারা সত্যবাদী ও কারা মিথ্যাবাদী। (সূরা আনকাবুত : ১-৩)

মুমিনগণই আল্লাহকে অধিক ভালোবাসে


وَمِنَ النَاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّٰهِ اَندَادَا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّٰهَ وَالَّذِينَ اٰمَنُوا اَشَدُّ حُبَّا اللّٰهِ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا اِذ يدوُ اُلعَذَابِ اِنَّ القُوَّةَ لِلّٰهِ جَمِيعًا وَاِنَّ اللّٰهَ شَدِيْدٌ الْعَذَابِ


অর্থ: এবং মানবমন্ডলীর মধ্যে এরূপ কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহর মোকাবেলায় অপরকে সমকক্ষে স্থির করে আল্লাহকে ভালবাসার ন্যায় তারা তাদেরকে ভালবেসে থাকে এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তারা যদি শাস্তি অবলোকন করতো, তবে বুঝতো যে সমুদয় শক্তি আল্লাহর জন্যে এবং নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। (সূরা বাকারা : ১৬৫)


কাফের বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না


لَا یَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُوْنَ الْکٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ وَمَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَلَیْسَ مِنَ اللّٰهِ فِیْ شَیْءٍ اِلَّاۤ اَنْ تَتَّقُوْا مِنْهُمْ تُقٰىۃً وَ یُحَذِّرُكُمُ اللهُ نَفْسَهٗ وَ اِلَی اللّٰهِ الْمَصِیْرُ

অর্থ: মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফেরদের কে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে এবং তাদের আশংকা হতে আত্মরক্ষা ব্যতীত যে এরূপ করে আল্লাহ সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই। আর আল্লাহ তোমাদের কে তাঁর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আল্লাহরই দিকে ফিরে, যেতে হবে। (সূরা আল ইমরান : ২৮)


বিশ্লেষণ : উক্ত আয়াতে অত্যান্ত কঠোর ভাষায় অমুসলিম ও অসৎ লোকদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে যে, যদি তোমরা ক্ষণস্থায়ী জীবনের সাথে কোন কাফির বা অমুসলিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো। বার্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করো তাহলে তোমাদের উপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন এবং এ কারণে আল্লাহ তোমাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তথা আল্লাহর রহমত তোমাদের থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে।


ঈমানদারগণ বেহেশত চিরকাল থাকবে

অর্থ: নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করে এ সৎকর্ম করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস সেথায় তারা স্থায়ী হবে, এর পরিবর্তে তারা অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হওয়া কামনা করবেনা। (সূরা কাহাফ : ১০৭-১০৮)


নবী-রাসূলদের উপর ঈমান আনতে হবে


یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَ اٰمِنُوْا بِرَسُوْلِهٖ یُؤْتِكُمْ کِفْلَیْنِ مِنْ رَّحْمَتِهٖ وَ یَجْعَلْ لَّكُمْ نُوْرًا تَمْشُوْنَ بِهٖ وَ یَغْفِرْ لَكُمْ وَ اللهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ۲۸

অর্থ: হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ কে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন। তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরুস্কার দান করবেন। আর তোমাদের কে নুর প্রদান করবেন, যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদের কে ক্ষমা করে দিবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা হাদীদ : ২৮-২৭)


اٰمَنَ الرَّسُولُ بِمَاۤ اُنزِلَ اِلَیهِ مِن رَّبِّ وَ المُؤمِنُونَ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلئِکَتِه وَ کُتُبِه وَ رُسُلِه لَا نُفَرِّقُ بَینَ اَحَدٍ مِّن رُّسُلِه وَ قَالُوا سَمِعنَا وَ اَطَعنَا غُفۡرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیکَ المَصِیرُ

অর্থ: রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেক ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না, আর তারা (মুমিনরা) বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবো। -(সূরা বাকারা : ২৮৫)


অদৃশ্যের উপর ঈমান আনা জরুরী


الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِالْغَیْبِ وَیُقِیْمُوْنَ الصَّلٰوۃَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ یُنْفِقُوْنَ ﴿۳﴾ وَالَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَ بِالْاٰخِرَۃِ هُمْ یُوْقِنُوْنَ ﴿۴﴾ اُولٰٓئِكَ عَلٰی هُدًی مِّنْ رَّبِّهِمْ وَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ ۵

অর্থ : যারা অদৃশ্য বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠিত করে, ও আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি, তা হতে ব্যয় করে থাকে। এবং যারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল। অদৃশ্যের বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতি যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। এরাই তাদের প্রভুর পক্ষ হতে প্রাপ্ত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং এরাই সফলকাম। (সূরা বাকারা : ৩-৫)


ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন আল্লাহ থেকে গাফেল না করে


یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تُلْهِكُمْ اَمْوَالُكُمْ وَ لَاۤ اَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَ مَنْ یَّفْعَلْ ذٰلِكَ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْخٰسِرُوْنَ

হে মুমিনগণ! তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্বরণ হতে উদাসিন না করে, যারা এমন করবে (উদযাপিত) হবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্থ। (সূরা মুনাফিকুন : ৯)


ঈমানদারদেরকে সফলতার সুসংবাদ


اَلّذِيْنَ يُؤمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوَةَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ يُنْفِقُوْنَ وَالَّذِيْنَ يُؤمِنُوْنَ بِمَا اُنْزِلَ اِليْكَ وَمَا اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِاَلاْخِرَةِ هُمْ يُوْقِنْوْنَ اُوْلٰئِكَ عَلٰى هُدَى مِّنْ رَّبِّهِمْ وَاُولٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ

অর্থ : যারা গায়বের প্রতি ঈমান আনে, নামায কায়িম করে এবং আমি যে জীবনোপকরণ তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। আর তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতিও তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। তারাই তাদের প্রতিপালকের হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, আর তারাই সফলকাম। (সূরা বাকারা : ৩-৫)


যারা ঈমান এনেছে তারা দুনিয়ার মধ্যে সর্বোত্তম


اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اُولٰٓئِكَ هُمْ خَیْرُ الْبَرِیَّۃِ ﴿۷﴾ جَزَآؤُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَنّٰتُ عَدْنٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَاۤ اَبَدًا رَضِیَ اللهُ عَنْهُمْ وَ رَضُوْا عَنْهُ ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِیَ رَبَّهٗ ۸

অর্থ : যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল করে তারাই সৃষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট। তাদের প্রতিপালকের নিকট আছে, তাদের পুরস্কার স্থায়ী জান্নাত। যার নিম্মদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। এবং তারাও তার উপর সন্তুষ্ট এটা তার জন্যে যে তার প্রতিপালককে ভয় করে। (সূরা বাইয়্যিনাহ : ৭-৮)


ঈমানদারগণ ছাড়া সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত


وَالْعَصْرِ﴿۱﴾ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَفِیْ خُسْرٍ﴿۲﴾ اِلَّا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ تَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ۳

অর্থ : ১.কালের শপথ ২. সমস্ত মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থের মধ্যে রয়েছে। ৩. কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে ও সৎ আমল করে এবং অপরকে সত্যের উপদেশ দেয়, ধৈর্য্যধারণে পরষ্পর কে উদ্ধুদ্ধ করে থাকে। (সূরা আসর : ১-৩)


ইসলামের পাঁচটি রুকুন সমূহের বর্ণনা


وَعَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : بُنِىَ الاِسْلاَمُ عَلٰى خَمْسٍ شَهَادَةُ أَنْ لاَ اِلهَ اِلاَّ اللّٰهُ وَاَنَّ مُحَمَّدً اعْبَدُهْ وَرَسُوْلُه وَاِقَامِ الصَّلاَةِ وَاِيتَاءِ الْزَكَاةِ وَالحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত। সেগুলো হচ্ছে,


১. এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। হযরত মুহাম্মদ রাসূল (সা) আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও তাঁর রাসূল। ২. নামায কায়েম করা ৩. যাকাত প্রদান করা ৪. হজ্জ করা এবং ৫. রমজান মাসে রোযা রাখা। (সহীহ বুখারী : ১/৮)
হাদীসের সহজ ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ইসলাম কে তাবুর সাথে তুলনা করা হয়েছে, এর কয়েকটি কারণ নিম্মে প্রদত্ত হলো
১. যেভাবে মানুষ তাঁবুর ভেতরে ঢ‚কলে সবধরনের অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে পারে, সেভাবে ইসলামে পরিপূর্ণ রূপে দাখেল হলে আভ্যন্তরীণ নফসে আম্মারাও শয়তানের ধোঁকা ও আত্মিক আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে পারি। ২. মানুষ তাবুঁর ভেতরে যেমন ঠাণ্ডা ও গরম থেকেও মৌসুমভেদে নিরাপদ থাকতে পারে সেভাবে কোন মানুষ যখন ইসলামে পরিপূর্ণ রূপে দাখেল হয়ে যায়। তখন সে সব ধরনের শয়তানি চক্রান্ত থেকে নিরাপদ থাকে। তা ছাড়াও ইসলামে পরিপূর্ণরূপে দাখেল হলে ন্যারিয়া ও যামাহারীর পর্যায়ের দোযখ থেকেও নিরাপদ থাকতে পারে।
উক্ত হাদীস থেকে শিক্ষালাভ


একজন মুসলমান হিসেবে ইসলামের এ পাঁচটি মূল স্তম্ভকে একাগ্রচিত্তে মেনে নিতে হবে এবং ইসলামের অন্যান্য হুকুম আহকামগুলোকেও মেনে চলতে হবে। আর এ পাঁচটিকেই যথেষ্ট মনে করা যাবে না। এবং অন্যান্য সব হুকুম আহকাম ও আম্লান বদনে মেনে নিতে হবে তা না হলে এক সময় এগুলো বাদ পড়ে যাবে। এই জন্য সুন্নাত ও সকল ইবাদতের প্রতিবেশি গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। যাতে করে কখনও ফরজ ছুটে না যায়।

রোজা ভঙ্গের কারন


রাসূল (সা) এর রিসালাতের ওপর ঈমান না


عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهَ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهَ ﷺ وَالَّذِىْ نَفْسُ مُحَمَّدِ بَيْدِهِ لاَ يَسْمَعُ اِلىْ اَحَدُمِنْ هٰذِه الاْمَّةِ يَهُوْدِىٌّ وَلاَ نَصَرَانِىْ ثُمَّ يَمُوْتُ وَلَمْ يُؤِمِنْ بِالَّذِىْ اُرْسِلْتُ بِهاِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ


অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! এ উম্মতের যে কেউ হোক ইহুদী কিংবা নাসারা আমার রিসালাতের কথা শুনবে অথচ যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি, তার উপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে সে অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (মুসলমি : ১৫৩, আহমাদ : ৮৬০৯)
উক্ত হাদীসের আলোকে মানুষ তিন প্রকার


১. যে সব মানুষ মুহাম্মাদ রাসূল (সা)-এর রিসালাতের কথা শুনে যে কিন্তু ঈমান আনেনি। তাদের হুকুম হলো তাই যা হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসি।
২. যারা মুহাম্মদ (সা)-এর রিসালাতের কথা শুনেছে এবং তার উপর ঈমানও এনেছে। তাদের হুকুম হলো পূর্বটির বিপরিত অর্থাৎ তারা হবে বেহেশতবাসী।
৩. যারা মুহাম্মদ (সা)-এর কথা শুনেইনি। তাই ঈমানও আনেনি। তাদের হুকুম হলো, مَسْكُوْتُ عَنْهُ এর আওতায় অর্থাৎ, এ হাদীসে থেকে তাদের দোযখী বা বেহেশতী হওয়ার হুকুম বুঝা যাচ্ছে না। তারা এ হাদীসের وَعَيْدُ তথা সতর্কতা বা ধর্মকার বাহিরে।


যে ব্যক্তি ঈমান আনবে দোযখ হারাম করে দিবেন


عَن عُبَادَةَ بنِ الصَّامِتِ رَضِيَ الله عَنهُ قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَلَيهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : مَن شَهِدَ أَن لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ حَرَّمَ الله عَلَيهِ النَّار

অর্থ: উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ (তাঁর অনুগ্রহে) তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৬)


ঈমানের মিষ্টতা


وَعَن الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ : ذَاقَ طَعْمَ الْإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللّٰهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا

অর্থ : আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছেন, সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসাবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসাবে ইসলামকে, এবং রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ রাসূল (সা) কে সন্তুষ্ট হিসেবে মেনে নিয়েছে। (সহীহ মুসলিম : ৩৪)


কি কাজ করলে ঈমান পরিপুর্ণ হয়?


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ ‏ مَنْ أَحَبَّ لِلّٰهِ وَأَبْغَضَ لِلّٰهِ وَأَعْطَى لِلّٰهِ وَمَنَعَ لِلّٰهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ

অর্থ : হযরত আবু উমামা (রা)  থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর জন্যেই কাউকে মুহাব্বাত করবে অথবা আল্লাহর জন্যেই কারো সাথে শত্রুতা করবে এবং আল্লাহর জন্যেই দান খয়রাত করবে অথবা আল্লাহর জন্যেই দান খয়রাত হতে বিরত থাকবে। সে তার ঈমান কে পরিপূর্ণ করে নিল। (আবু দাউদ : ৪৬৮১, মিশকাত শরীফ : ১৪)


عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَبِهِنَّ حَلاَوَةَ الاْيِمَانِ اَنْ يَكُوْنَ، اللّٰهُ وَرَسُوْلُهُ اَحَبُّ اِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَاَنْ يُحِّبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّ اِلَّا لِلّٰهِ وَاِنْ يَكْرَهَ اَنْ يَعُوْدَ فِىْ الْكُفْرِ بَعْدَ اَنْ اَنْقَذَهُ اللّٰهُ مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِىْ النَّارِ

অর্থ : হযরত আনাস (রা)  থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, তিনটি জিনিষ যার মধ্যে রয়েছে। সেই ঈমানের প্রকৃত মিষ্ঠতা অনুভব করবে। ১. যার কাছে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা) অন্য সব থেকে অধিক প্রিয় ২. যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার বান্দাকে ভালোবাসে। ৩. যাকে আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তারপর সে কুফরের দিকে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করে, যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। (বুখারী : ১৬, মুসলিম)


হাদীসের সহজ ব্যাখ্যা : قَوْلِهِ ثَلاَثٌ এই শব্দটি দ্বারা তিনটি গুণ উদ্দেশ্য, যথা ১. আল্লাহ তায়ালা এবং রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালোবাসা ২. আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা ৩. কুফরকে ঘৃণা করা।
ঈমানের স্বাদ কী? ঈমাম নববী (রহ.) ঈমানের স্বাদের ব্যাখ্যা করেছেন।
اِسْتَلذَا بِالطَّعَاتِ অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা এবং রাসূল (সা) বলেছেন-এর আনুগত্য করলে অন্তরে যে, অনির্বাচনীয় প্রশান্তি লাভ হয় তাই ঈমানের স্বাদ। বিষয়টি অনুভব এবং উপলব্ধি ব্যক্ত করার নয়।
قَوْلُهٗ وَاِنَّ يُحَّبَ দুনিয়ার যে কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলে তা হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য, পার্থিব কোন উদ্দেশ্য নয়। যার জন্য মুহাব্বাত হচ্ছে তিনি চিরঞ্জীব। তাই যার সাথে মুহাব্বাতের সম্পর্ক স্থাপিত হলো সে কিছু না দিয়ে তা বিমুখতা প্রদর্শন করলেও তার সাথে মুহাব্বাত অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ যার জন্য মুহাব্বাত সেই চিরঞ্জীব আল্লাহই তো আছেন এবং থাকবেন চিরদিন। সর্বোপরি একজন প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যে স্রষ্টা এবং সৃষ্টি উভয়ের ভালোবাসার হক আদায় করবে।


মুমিনের আলামত


عَنْ آنَس بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ :قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ مَنْ صَلَّى صَلاَ تَنَا وَاسْتَقْبَلَ قِبْلَتَنَا وَاَ كَلَ ذَبِيْحَتَنَا فَذٰلِكَ الْمُسْلِمُ الَّذِىْ لَهُ ذِمَّةُ اللّٰهِ وَ ذِمَّةُ رَسُوْلِه فَلاَ تُخْفِرُوْا اللّٰهَ فِىْ ذِمَّتِه

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন যে, ব্যক্তি আমাদের মতো নামায পড়ে আমাদের কেবলা কে কেবলা মনে করে এবং আমাদের জবাই কৃতপ্রাণী ভক্ষণ করে, সে অবশ্যই মুসলমান। আল্লাহ ও তার রাসূল যার দায়িত্ব নিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর দায়িত্বের ব্যাপারে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (বুখারী শরীফ : ৩৯১)


সর্বোত্তম ঈমান কি?


وَعَن معَاذ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ عَنْ أَفْضَلِ الْإِيمَانِ قَالَ : أَنْ تُحِبَّ لِلّٰهِ وَتُبْغِضَ لِلّٰهِ وَتُعْمِلَ لِسَانَكَ فِي ذِكْرِ اللّٰهِ قَالَ ومَاذَا يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ قَالَ وَأَن تُحِبُّ للنَّاسِ مَا تُحِبُّ لنَفْسِكَ وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ لِنَفْسِكَ

অর্থ: হযরত মুয়াজ (রা)  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি নবী করীম রাসূল (সা) কে সর্বোত্তম ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: তখন তিনি ইরশাদ করলেন, তুমি আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে, এবং আল্লাহর জন্যই কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। আর তোমার যবান কে মহান আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখবে। হযরত মুয়াজ (রা)  প্রশ্ন করলেন তারপর আর কি? হে আল্লাহর রাসূল তিনি বললেন, অপর মানুষের জন্য তাই পছন্দ করবে, নিজের জন্য যা পছন্দ করো, এবং তাদের জন্য তাই অপছন্দ করবে নিজের জন্য যা অপছন্দ করো।(মুসনাদে আহমাদ : ২২১৩০)


প্রকৃত মুসলমান কাকে বলে?


عَنْ أَنَسٍ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهَ عَنِ النَّبِىَ ﷺ قَالَ لاَ يُؤمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى يُحِبُّ لاَخِيْهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِه

অর্থ: হযরত আনাস (রা)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ প্রকৃত ঈমানদার হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার ভায়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। (বুখারী : ১৩, মুসলিম : ৪৫, তিরমিযী : ২৫১৫)


সর্বোত্তম ঈমানের অধিকারী কে?


عَنْ مُعَاذِ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ اَنَّهُ سَأَلَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ عَنْ اَفْضَلَ الاْيْمَانَ قَالَ اَنْ تُحِبَّ اللّٰهِ وَتَعْمِلَ لِسَانَكَ فِىْ ذَكْرَ اللّٰهِ قَالَ وَمَا ذَا يَا رَسُوْلُ اللّٰهِ وَاِنْ تُحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَاتَكْرَهُ لِنَفْسِكَ

অর্থ: হযরত মুয়াজ (রা)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, ঈমানের দিক থেকে ঐ ব্যক্তিই সকলের চেয়ে সেরা, যার আখলাক চরিত্র সবার চেয়ে উত্তম। (আবু দাউদ : ৪৬৮২, সুনানে দারেমী : ২৮৩৪)


ঈমানের সত্তরটিরও অধিক শাখা-প্রশাখা


عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ

অর্থ : হযরত আবু হুরায়রা (রা)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশি। অথবা ষাটটিরও কিছু বেশি। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে “আল্লাহ ব্যাতিত ইলাহ নেই” এ কথা স্বীকার করা আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে- রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা ঈমানের বিশিষ্ট একটি শাখা। (সহীহ মুসলিম : ৬০)


ঈমান আনার উপকারিতা


ثُمَّ نُنَجِّیْ رُسُلَنَا وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا کَذٰلِكَ حَقًّا عَلَیْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِیْنَ ۱۰۳

অতঃপর আমি বাঁচিয়ে নেই নিজের রাসূলগণ কে এবং তাদের কে যারা ঈমান এনেছে এমনিভাবে ঈমানদারদের বাঁচিয়ে নেয়া আমার দায়িত্বও বটে।
(সূরা ইউনুস : ১০৩)


যার অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান রয়েছে


عَنْ عَبْدِ اللّٰهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُاللّٰهِ ﷺ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبٍرْ وَلاَ يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرَدَ لِ مِنْ اِيمْاَنٍ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ (রা)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যার অন্তরে সরিষা পরিমাণও অহংকার রয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেনা। এবং যার অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান রয়েছে। সে জাহান্নামে প্রবেশ করবেনা।
(ইবনে মাজাহ শরীফ : ৫৯, মুসলিম : ৯১, তিরমিযি : ১৯৯৮, আবু দাউদ : ৪০৯১, আহমদ : ৩৭৭৯)


আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে ভালবাসেন


اِنَّ اللهَ یُحِبُّ التَّوَّابِیْنَ وَیُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِیْنَ ۲۲۲

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে। তাদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা বাকারা : ২২২)


فَاِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ ۷۶

অর্থ: অবশ্যই আল্লাহ পরহেযগারদের ভালবাসেন। (সূরা আল ইমরান : ৭৬)


فَتَوَکل عَلَی اللّٰهِ اِن الله یُحِبُّ الْمُتَوَکِّلِین ۱۵۹

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন। (সূরা আল ইমরান : ১৫৯)


اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الَّذِیْنَ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِهٖ صَفًّا کَاَنَّهُمْ بُنْیَانٌ مَّرْصُوْصٌ ۴

অর্থ: আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে যেন তারা সীসা লাগানো প্রাচীর (সূরা ছফ : ৪)


وَ اِنْ حَکَمْتَ فَاحْكُمْ بَیْنَهُمْ بِالْقِسْطِ اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُقْسِطِیْنَ ۴۲

অর্থ: যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচার কারীদের কে ভালবাসেন। (সূরা মাঈদা : ৪২)


وَاللهُ یُحِبُّ الصّٰبِرِیْنَ ۱۴۶

অর্থ: আর যারা সবর করে আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আল ইমরানের : ১৪৬)


عَنِ اِبْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ اَبِيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ اِنَّ اللّٰهَ اَمَرَنِىْ يُحِبُّ اَرْبَعَةَ اَخْبَرَنِىْ اَنَّهُ يُحِبّهُمْ قِيْلَ يَارَسُوَلَ اللّٰهِ مَنْ هُمْ قَالَ عَلِىٌ مِنْهُمْ يَقُوْلُ ذَلكَ ثَلاَثاَ وَاَبُوْذَرٍّ وَسْلَمَانُ وَالْمَقْدَاِدُ

অর্থ: হযরত বুরায়দা (রা)  থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা চার ব্যক্তি কে ভালোবাসতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তিনি আমাকে এ সংবাদ ও দিয়েছেন, তিনি তাদেরকে ভালবাসেন। জিজ্ঞাসা করা হল ইয়া রাসূলুল্লাহ। তারা কারা? তিনি বললেন, আলী তাদের একজন একথাটি তিনি তিনবার বললেন, অন্য তিন জন হলেন আবু যর, সালমান ও মিকদাদ (রা) । (ইবনে মাজাহ : ১৪৯)


আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে ভালবাসেন না


وَاللهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ کَفَّارٍ اَثِیْمٍ ۲۷۶

অর্থ: বস্তুত যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে তাহলে আল্লাহ কাফেরদের কে ভালবাসেন না। (সূরা বাকারা : ২৭৬)


وَاللهُ لَا یُحِبُّ الظّٰلِمِیْنَ ۵۷

অর্থ: আর আল্লাহ অত্যাচারীদেরকে ভালবাসেন না। (সূরা আল ইমরান : ৫৭)


وَلَا تَعْتَدُوْا اِنَّ اللهَ لَا یُحِبُّ الْمُعْتَدِیْنَ ۱۹۰

অর্থ: অবশ্যই আল্লাহ কারো প্রতি বাড়াবাড়ী করেন না। নিশ্চয়ই সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা বাকারা : ১৯০)


اِنَّ اللهَ لَا یُحِبُّ مَنْ کَانَ خَوَّانًا اَثِیْمًا ۱۰۷

অর্থ : আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে যে বিশ্বাসঘাতক পাপী হয়।
(সূরা নিসা : ১০৭)


اِنَّ اللهَ لَا یُحِبُّ مَنْ کَانَ مُخْتَالًا فَخُوْرَا ۳۶

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। (সূরা নিসা : ৩৬)


وَاللهُ لَا یُحِبُّ الْمُفْسِدِیْنَ ۶۴

অর্থ: আল্লাহ তায়ালা অশান্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা মায়েদা : ৬৪)


وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الْمُسْرِفِیْنَ ۱۴۱

অর্থ: এবং অপব্যয় করোনা, নিশ্চয় তিনি অপব্যয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা আনআম : ১৪১)


اِنَّهٗ لَایُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِیْنَ ۲۳

অর্থ: নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা নাহল : ২৩)


اِنَ اللهَ لَا یُحِب كُل خَوان کَفورٍ ۳۸

অর্থ : আল্লাহ কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না। (সূরা হজ্জ : ৩৮)


اِنَّ اللهَ لَا یُحِبُّ الْفَرِحِیْنَ ۷۶

অর্থ : আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না। (সূরা কাছাছ : ৭৬)


عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ يَرْفَعُه اِلىَ أَبِىْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِى ﷺ قَالَ ثَلاَثَهُ يُحُّبُهُمْ اللّٰهُ وَثَلاَثَهُ يُبْغَضُهُمْ وَالثَّلاَثَةُ الَّذِيْنَ يُبْغِضُهُمْ اللّٰهُ اَشَّيْخُ الزَّانِى وَالْفَقِيْرُ الْمُحْتَالُ وَالغَنِىُّ الظُّلُوْمُ

অর্থ: হযরত আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ভালবাসেন আর তিন ব্যক্তিকে অপছন্দ করেন। আর যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা অপছন্দ করেন তারা হল ১. ব্যভিচারী বৃদ্ধা ২. অহংকারী ফকীর ৩. সম্পদশালী জালিম। (তিরমিযী শরীফ : ২৭৬৭)


আল্লাহ তায়ালা যে কাজ পছন্দ করেন না


لَایُحِبُّ اللهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْٓءِ مِنَ الْقَوْلِ اِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَکَانَ اللهُ سَمِیْعًا عَلِیْمًا ۱۴۸

অর্থ: আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা, আল্লাহ শ্রবণকারী বিজ্ঞ। (সূরা নিসা : ১৪৮)


اِنَّ اللّٰهَ لاَ يُحِبُّ الْمَخِيْلَةَ

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিকতা পছন্দ করেন না। (আবু দাউদ : ৪০৮৪)


আল্লাহ যাদের উপর অভিসপ্তাত করেছেন


اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ اُولٰٓئِكَ عَلَیْهِمْ لَعْنَۃُ اللّٰهِ وَالْمَلٰٓئِکَۃِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ ۱۶۱

অর্থ: নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেস্তাদের এবং সমগ্র মানুষের অভিসম্পাত। (সূরা বাকারা : ১৬১)


کَیْفَ یَهْدِی اللهُ قَوْمًا کَفَرُوْا بَعْدَ اِیْمَانِهِمْ وَشَهِدُوْۤا اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَّجَآءَهُمُ الْبَیِّنٰتُ وَاللهُ لَا یَهْدِی الْقَوْمَ الظّٰلِمِیْنَ ﴿۸۶﴾ اُولٰٓئِكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَیْهِمْ لَعْنَۃَ اللّٰهِ وَالْمَلٰٓئِکَۃِ وَالنَّاسِ اَجْمَعِیْنَ ۸۷

অর্থ: কেমন করে আল্লাহ এমন জাতিকে হেদায়াত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং রাসূল কে সত্য বলে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট প্রমাণ এসে যাওয়ার পর কাফের হয়েছে। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না। এমন লোকের শাস্তি হলো আল্লাহ ফেরেস্তাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। (সূরা আলে ইমরান : ৮৬-৮৭)


اِنَّ الَّذِیْنَ یُؤْذُوْنَ اللهَ وَ رَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَۃِ

অর্থ: যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন। (সূরা আহযাব : ৫৭)


لَعَنَ اللّٰهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ اَلاَرْضِ

অর্থ: নবী করীম (সা) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা লানত বর্ষণ করেন, ঐ ব্যক্তির উপর দুই জমিনের সীমা নির্ণয়কে (মধ্যবতি আইল) অথবা রাস্তার চিন্থ মুছে ফেলে। (মুসলিম শরীফ : ৫২৩৯)


আল্লাহ তায়ালার বিশেষ বান্দাদের পরিচয়


وَ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ الَّذِیْنَ یَمْشُوْنَ عَلَی الْاَرْضِ هَوْنًا وَّ اِذَا خَاطَبَهُمُ الْجٰهِلُوْنَ قَالُوْا سَلٰمًا ﴿۶۳﴾ وَالَّذِیْنَ یَبِیْتُوْنَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا ۶۴

অর্থ: রহমান এর বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নরমালভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সঙ্গে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে সালাম। এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে দন্ডায়মান হয়ে।(সূরা ফুরকান : ৬৩- ৬৪)


وَالَّذِیْنَ یَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعْیُنٍ وَّ اجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِیْنَ اِمَامًا ۷۴

অর্থ : এবং যারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো। এবং আমাদের মধ্যে থেকে একজন ইমাম বা নেতা বানাও। (সূরা ফুরকান : ৪৭)