ইশরাক নামাজ পড়ার নিয়ম

ইশরাক নামাজ হলো নফল নামাজ, এই নামাজ ২ রাকাত করে ৪ রাকাত পড়তে হয় এই নামাজের জন্য ভিন্ন কোন নিয়ম নাই, আমাদেরন প্রতিদিনকার নামাজের মতই পড়তে হয়। আল্লাহ তাআলা এই নামাজের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।

ফজরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করার পর সূর্য এক নেজা (যার পরিমাণ প্রায় ২৩ মিনিট সময়) উপরে উঠা পর্যন্ত আল্লাহ্ তা’আলার যিকিরে মশগুল থাকা মুস্তাহাব। অতঃপর দু’রাকআত নফল নামায আদায় করাকে ইশরাকের নামায বলা হয়।

ইশরাক নামাজ পড়ার সময়


সূর্যোদয়ের প্রায় ২০/৩০ মিনিট পর থেক দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত, ইশরাক নামাজ পড়ার নিয়ম।

ইশরাক নামাজ এর ফজিলত

 অর্থ: হযরত আনাস রাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাআতের সাথে আদায় করে। অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত জায়নামাজে বসে যিকির আযকার করতে থাকে তারপর দুই রাকআত ইশরাক নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি মকবুল হজ্ব ও একটি ওমরা হজ্জ পালনের সাওয়াব দান করা হবে। (সহীহ তিরমিযী হাদীস নং-৫৮৬, মিশকাত-৮৯পৃ.)

পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম

দুই রাকাত নামাজের ৬০টি মাসআলা

নাদিয়া কায়দা : Nadia Kaida

রাসূল (সা) ইশরাকের নামাজ পড়তেন

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا فَكَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَامَ صلى الله عليه وسلم

 অর্থ: ইবন নুফায়েল (রহঃ) ….. ছিমাক (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবন ছামুরা (রা)-কে জিজ্ঞাস করি, আপনি কি অধিক সময় রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাথে থাকতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি অনেক সময় তাঁর সাথে অতিবাহিত করতাম । তিনি ফজরের নামাজের পর ঐ স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। অতঃপর সূর্য উপরে উঠলে তিনি ইশরাকের নামায আদায় করতেন। (আবু দাউদ : ১২৯৪)

عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاذَةَ قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الضُّحَى ؟ قَالَتْ : نَعَمْ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَيَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ

. অর্থ: মুয়ায (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (সা) কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? উত্তরে তিনি বললেন হ্যাঁ, চার রাকাত সালাত আদায় করতেন, আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো বেশিও পড়তেন।

الضحى (দ্বোহা) অর্থ হলো সকালবেলা বা দিনের প্রথম প্রহর, ইশরাক ও চাশত উভয় নামাযকে বুঝাতে “সালাতুদ দ্বোহা” ব্যবহার করা হয়েছে। সূর্য উদয়ের সময়কে নামাজের জন্য নিষিদ্ধ সময় বলা হয়। এরপর থেকে সূর্য পশ্চিম আকাশে কিছুটা হেলো যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে দ্বোহা বলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *