যাকাত শব্দের অর্থ কি

الزكاة ‘যাকাত’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো: পরিশুদ্ধকরণ, বৃদ্ধি ও উন্নতি।

ইসলামী পরিভাষায়: একজন সামর্থবান (যার উপর যাকাত ফরজ) ব্যক্তির সম্পদের ভেতর শরিয়তের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ দান করাকে যাকাত বলা হয়, যা বিশেষ একদল লোকদেরকে দিতে হয়।

যাকাত যাদের ওপর ফরজ

নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ— শুধু নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই হবে না আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন:- স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম যাকাত আদায় করবে, নীচে এর শর্ত দেওয়া হলো। তাছাড়া অমুসলিম, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পরাধীন হলে যাকাত ফরজ হবে না যদিও নিচের শর্ত পুরণ হয়। —

যাকাত সম্পর্কিত আয়াত

১. সম্পদের ওপর যাকাত আদায়কারীর পূর্ণাঙ্গ মালিকানা থাকতে হবে।
২. যাকাত আদায়কারীর সম্পদ উৎপাদনে সক্ষম ও বর্ধনশীল সম্পদ হতে হবে।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকতে হবে।
৪. যাকাত আদায়কারীর বছরের সব প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ থেকেই শুধু জাকাত ফরজ হবে।
৫. ঋণমুক্ত থাকার পর যে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার উপর যাকাত ফরজ।
৬. নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকলেই ওই সম্পদের ওপর যাকাত দিতে হবে।

কুরআন শরীফ

যাকাত যাদেরকে দিতে হবে?

১. গরীব, ফকীর— যাদের নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
২. মিসকিন— যাদের কোনো সম্পদ নেই।
৩. যাকাত সম্পাদনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৪. অমুসলিমকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য যাকাত দেয়া। তবে বর্তমানে তা প্রযোজ্য নয়।
৫. সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে থাকা দাস বা দাসী।
৬. ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তি।
৭. এমন, যুদ্ধা যারা যুদ্ধের জন্য অস্ত্র যোগাতে অক্ষম অথবা টাকার অভাবে হজের কাজ পূর্ণ করতে অক্ষম বা ইলম হাসিল ও দ্বীনি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত গরিব মানুষ।
৮. সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।