মুনাফিক কাকে বলে? আলোচনা-আয়াত হাদিস

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন মুনাফিক কাকে বলে: মুনাফিক শব্দটি আরবি نِفَاقْ নিফাক থেকে এসেছে। এর মূল অর্থ হলো: খরচ করা, চালু করা, গোপন করা এবং অস্পষ্ঠ করা, ইত্যাদী। এটি সাধারণত কপটতা এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। যে ব্যক্তি নিফাকে লিপ্ত হয় বা জড়িত হয় তাকে মুনাফিক বলে। তবে নিম্নে মুনাফিক কাকে বলে, তা নিয়ে নিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

Table of Contents

আর ইসলামী পরিভাষায় নিফাক দুই প্রকার

১। ইতেকাদি বা বিশ্বাসগত নিফাক। ২। আমলী বা কর্মগত নিফাক।

ইতেকাদি বা বিশ্বাসগত নিফাক

বড় নিফাক অন্তরে অবিশ্বাস লুকিয়ে রেখে মুখে ঈমান বা বিশ্বাস প্রকাশ করাকে ইতেকাদি নিফাক বলা হয়। এই নিফাকের বহিঃপ্রকাশ কয়েকভাবে হতে পারে।

(ক) নবী করীম (সা.)-এর সকল শিক্ষা দাওয়াত তা তাঁর শিক্ষার কোন দিককে মিথ্যা বলে মনে করা

(খ) নবী করীম (সা.) কে ঘৃণা করা তা তাঁর প্রতি কোন বিদ্বেষ পোষণ করা।

(গ) নবী করীম (সা.)-এর দ্বীনের অবমাননায় আনন্দীত হওয়া

(ঙ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.-এর দ্বীনের সাহায্য করতে অপছন্দ করা ইত্যাদী কুরআন ও হাদীসে মূলত এ ধরনের নিফাকের কথা বলা হয়েছে। এরূপ নিফাক বস্তুত কুফরেরই একটি প্রকার

আমলী বা কর্মগত নিফাক

মানুষের কর্মের পেছনে তার বিশ্বাসই আসল চালিকা শক্তি এবং বিশ্বাসই মানুষের কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাহ্যিক কর্ম মানুষের আভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের প্রতিফলক। কারো অন্তরে যদি বিশ্বাস না থাকে কিন্তু বাইরে সে বিশ্বাসের দাবি করে থাকে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তার অন্তরের অবিশ্বাস তার কর্মে প্রকাশিত হয়ে যায়। যা প্রমাণ করে যে, সে মুখে মুখে ইমান ও তাকওয়ার দাবি করলেও তার অন্তরে ঈমান ও তাকওয়া অনুপস্থিত।

মুনাফিকের আলামত কয়টি

নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন। চারটি বদ অভ্যাস যার মধ্যে থাকবে সে নির্ভেজাল মুনাফিক। আর যার মধ্যে সেগুলোর মধ্যে হতে কোন একটি থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকী ও কপটতার একটি (বদ) অভ্যাস বিদ্যবান থাকে। ১. যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয়। তাতে সে খেয়ানত বা আত্মসাৎ করে। ২. যখন সে কথা বলে, তখন সে মিথ্যা বলে। ৩. যখন কারো সাথে ওয়াদা অঙ্গীকার করে তখন তা ভঙ্গ করে। ৪. আর যখন কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন মন্দ ও অশ্লীল কথা বলে, বা আচারণ করে। এ সকল কর্ম বাহ্যত অন্তরে বিশ্বাসের অনুপস্থিতির প্রমাণ বহন করে। তবে যদি অন্তরে প্রকৃত অবিশ্বাস বিদ্যমান না থাকে তাহলে এসব কর্ম পারিভাষিক কুফর অথবা ইতেকাদি নিফাক বা বিশ্বাসগত নিফাক হিসেবে গণ্য হবে না। বরং আমলী বা কর্মের নিফাক হিসেবে গণ্য হবে।

১.মুনাফিকরা মুখে বলে একটি কিন্তু অন্তরে ভিন্নটি

وَ  اِذَا لَقُوا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْۤا اٰمَنَّا وَ  اِذَا خَلَوْا اِلٰی شَیٰطِیْنِهِمْ قَالُوْۤا اِنَّا مَعَكُمْ اِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُوْنَ ﴿۱۴﴾

অর্থ: আর যখন তারা মুনাফিকরা মুমিনদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি। এবং যখন গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা তো কেবল তাদের মুমিনদের সাথে ঠাট্টা উপহাস করে থাকি। (সুরা বাকারা : ১৪)

২.মুনাফিকরা মুখে বলে একটি আর অন্তরে থাকে অন্যটি

یَحْذَرُ الْمُنٰفِقُوْنَ اَنْ تُنَزَّلَ عَلَیْهِمْ سُوْرَۃٌ  تُنَبِّئُهُمْ بِمَا فِیْ قُلُوْبِهِمْ قُلِ اسْتَهْزِءُوْا اِنَّ اللهَ  مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُوْنَ ﴿۶۴﴾  وَلَئِنْ سَاَلْتَهُمْ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ قُلْ اَبِاللّٰهِ وَاٰیٰتِهٖ وَرَسُوْلِه كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُوْنَ ﴿۶۵﴾ 

অর্থ: মুনাফিকরা ভয় করে যে তাদের বিষয়ে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হবে। যা তাদের অন্তরের বিষয়াবলি গুলি জানিয়ে দিবে। বল তোমরা উপহাস করতে থাকো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই জানিয়ে দিবেন, তোমরা যা ভয় করছ। আর যদি তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করো, অবশ্যই তারা বলবে, আমরা আলাপ চারিতাও খেলতামাশা করছিলাম। বল আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ ও তার রাসূলের সাথে তোমরা বিদ্রæপ করছিলে। (সূরা তাওবা : ৬৪-৬৫)

৩.মুনাফিক নারী পুরুষ সবাই সমান এদের শাস্তি হবেঅত্যান্ত ভয়াবহ

اِنَّ الْمُنٰفِقِینَ فِی الدَّرْكِ الْاَسفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمْ نَصِیْرًا ۱۴۵

অর্থ: নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনির্ম্ম স্তরে থাকবে। আর আপনি কখনও তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী পাবেন না। (সূরা নিসা : ১৪৫)

৪.মুনাফিক নারী ও পুরুষ এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম

وَعَدَ اللهُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَالْمُنٰفِقٰتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا هِیَ حَسْبُهُمْ  وَلَعَنَهُمُ اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِیْمٌ ﴿۶۸﴾

অর্থ: আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং কাফেরদেরকে জাহান্নামের আগুনের ওয়াদা করেছেন। তাতে তারা চিরদিন থাকবে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ঠ। আর আল্লাহ তাদের উপর লানত করেন এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আযাব। (সূরা তাওবা : ৬৮)

৫.মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنٰفِقِیْنَ وَاغْلُظْ عَلَیْهِمْ وَمَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِیْرُ ﴿۷۳﴾

অর্থ: হে নবী, কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো, এবং তাদের উপর কঠোর হও। আর তাদের ঠিকানা হল জাহান্নাম, আর তা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান। (সূরা তাওবাহ : ৭৩)

৬.মুনাফিকগণ মুখে ঈমানের দাবি করলেও তারা প্রকৃত মুমিন নয়

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِیْنَ ۘ﴿۸﴾

অর্থ: আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে যারা মুখে মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি, অথচ তারা মুমিন নয়। (সূরা বাকারা : ৮)

৭.মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়

یُخٰدِعُوْنَ اللهَ وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا  وَمَا یَخْدَعُوْنَ  اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَ ﴿۹﴾

অর্থ: মুনাফিকরা মনে মনে ধারণা করে যে, তারা আল্লাহকে এবং যারা ঈমান এনেছে, তাদের কে ধোঁকা দিচ্ছে এবং তারা তা অনুধাবন করে। (সূরা বাকারা : ৯)

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللهَ وَ لَا تُطِعِ الْکٰفِرِیْنَ وَ الْمُنٰفِقِیْنَ اِنَّ اللهَ کَانَ عَلِیْمًا حَکِیْمًا﴿۱﴾  وَّاتَّبِعْ مَا یُوْحٰۤی اِلَیْكَ مِنْ رَّبِّكَ اِنَّ اللهَ کَانَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرًا﴿۲

অর্থ: (১) হে নবী আল্লাহ কে ভয় করুন, এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্যক অবগত এবং মহা প্রজ্ঞাময়। (২) আর তোমার রবের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়। তুমি তার অনুসরণ কর। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। (সূরা আহযাব : ১-২)

৮.মুনাফিকদের পরিচয়

وَ مِنَ النَّاسِ مَن یَّقُولُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ فَاِذَاۤ اُوۡذِیَ فِی اللّٰهِ جَعَلَ فِتنَۃَ النَّاسِ کَعَذَابِ الله وَ لَئِن جَآءَ نَصۡرٌ مِّن رَّبِّکَ لَیَقُوۡلُنَّ اِنَّا کُنَّا مَعَکُمۡ اَوَ لَیۡسَ اللّٰهُ بِاَعۡلَمَ بِمَا فِیۡ صُدُورِ العٰلَمِینَ ﴿۱۰﴾ وَ لَیَعۡلَمَنَّ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ لَیَعۡلَمَنَّ الۡمُنٰفِقِینَ ﴿۱۱

অর্থ: (১০) আর কিছু লোক আছে যারা বলে আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি অতঃপর যখন আল্লাহর ব্যাপারে তাদের কষ্ট দেয়া হয়। তখন তারা মানুষের নিপীড়তকে আল্লাহর আযাবের মত গণ্য করে। আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে কোন বিজয় আসে, তখন অবশ্যই তারা বল, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে ছিলাম। সৃষ্টিক‚লের অন্তরসমূহে যা কিছু আছে আল্লাহ কি তা সম্পর্কে সম্যক অবগত নন? (১১) আর আল্লাহ অবশ্যই জানেন যারা ঈমান এনেছে এবং তিনি মুনাফিকদেরকে জানেন। (সূরা আন কাবুত : ১০-১১)

৯.মুনাফিক লোকদের কয়েকটি পরিচয়

فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ  فَزَادَهُمُ  اللهُ  مَرَضًا   وَلَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ بِمَا کَانُوْا یَکْذِبُوْنَ ﴿۱۰﴾   وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ قَالُوْۤا اِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُوْنَ ﴿۱۱﴾ اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُوْنَ وَلٰکِنْ لَّا یَشْعُرُوْنَ ﴿۱۲﴾ وَ  اِذَا قِیْلَ لَهُمْ اٰمِنُوْا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوْۤا اَنُؤْمِنُ کَمَاۤ اٰمَنَ السُّفَهَآءُ اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ  السُّفَهَآءُ  وَلٰکِنْ لَّا یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۳﴾ وَ  اِذَا لَقُوا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا قَالُوْۤا اٰمَنَّا وَ اِذَا خَلَوْا اِلٰی شَیٰطِیْنِهِمْ قَالُوْۤا اِنَّا مَعَكُمْ اِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُوْنَ ﴿۱۴﴾ اَللهُ یَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَیَمُدُّهُمْ فِیْ طُغْیَانِهِمْ یَعْمَهُوْنَ ﴿۱۵﴾

অর্থ: (১০) তাদের অন্তরসমূহ রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্ত্রি। কারণ তারা মিথ্যা বলত। (১১) আর যখন তাদেরকে বলা হয় তোমরা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করোনা। তখন তারা বলে আমরা তো কেবল সংশোধনকারী। (১২) জেনে রাখো নিশ্চয়ই তারা ফাসাদকারী, কিন্তু তারা বুঝে না। (১৩) আর যখন তাদেরকে বলা হয়। তোমরা ঈমান আন যেমন লোকেরা মুমিনরা ঈমান এনেছে। তখন বলে আমরা কি ঈমান আনব যেমন নিবোর্ধরা ঈমান এনেছে? জেনে রাখো নিশ্চয়ই তারাই নির্বোধ কিন্তু তারা জানেনা। (১৪) আর যখন তারা মুমিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি, এবং যখন গোপনে তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সাথে আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী। (১৫) আল্লাহ তাদের প্রতি উপহাস করেন এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরার অবকাশ দেন। (সূরা বাকারা : ১০-১৫)

নামাজ ভঙ্গের কারণসমূহ

১০.যার মধ্যে চারটি অভ্যাস থাকবে সে নির্ভেজাল মুনাফিক

عَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَمْرٍ وَ رَضِىَ  اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ اَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَطْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا اِذَا اُؤْتُمِنَ خَانَ اِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَا عَاهَدَ غَدَرَ  وَاِذَا خَاصَمَ فَجَرَ  

অর্থ: হযরত আব্দুাহ ইবনে আমর (রা.)  বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, চারটি বদ অভ্যাস যার মধ্যে থাকে সে নির্ভেজাল মুনাফিক। আর যার মধ্যে সেগুলোর মধ্যে হতে কোন একটি থাকে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি (বদ) অভ্যাস বিদ্যমান থাকে। ১. যখন তার কাছে কিছু আমানত রাখা হয়, তাতে সে এ খেয়ানত করে বা আত্মসাৎ করে ২. যখন সে কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে। ৩. যখন কারো সাথে ওয়াদা করে তখন সে ভঙ্গ করে। ৪. আর যখন সে কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় তখন সে মন্দ ও অশ্লীল আচরণ করে। (সহিহ বুখারী : ৩৪ মুসলিম : ১/২৫ হা ৫৮, আহমদ : ৬৭৮২)

১১. منافق মুনাফেকের আলোচনা

اِذَا جَآءَكَ  الْمُنٰفِقُوْنَ  قَالُوْا نَشْهَدُ اِنَّكَ  لَرَسُوْلُ اللّٰهِ  وَ اللهُ یَعْلَمُ  اِنَّكَ لَرَسُوْلُهٗ وَ اللهُ  یَشْهَدُ  اِنَّ  الْمُنٰفِقِیْنَ لَکٰذِبُوْنَ ﴿۱﴾

মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে, আমরা সাক্ষী দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রাসূল, এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। (সূরা মুনাফিকুন : ১)

১২.মুনাফিক নারী পুরুষ সবাই একই রকম

اَ لْمُنٰفِقُوْنَ وَالْمُنٰفِقٰتُ بَعْضُهُمْ مِّنْ بَعْضٍ یَاْمُرُوْنَ بِالْمُنْکَرِ وَیَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوْفِ وَیَقْبِضُوْنَ اَیْدِیَهُمْ نَسُوا اللهَ فَنَسِیَهُمْ اِنَّ الْمُنٰفِقِیْنَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ ﴿۶۷﴾  وَعَدَ اللهُ الْمُنٰفِقِیْنَ وَالْمُنٰفِقٰتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا هِیَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِیْمٌ ﴿۶۸﴾ 

অর্থ: (৬৭) মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম, শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা, থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে, আল্লাহকে ভুলে গেছে তারা, কাজেই তিনিও তাদের ভুলে গেছেন। নিশ্চয়ই মুনাফেকরাই নাফারমান। (৬৮) অঙ্গিকার করেছেন আল্লাহ, মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্য দোযখের আগুনের তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা, সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিস্পাত করেছেন, এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী আযাব। (সূরা তাওবা : ৬৭-৬৮)

১৩.মুনাফিকের আলামত তিনটি

وَعَنْ أَبِـي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ (ص) قَالَ آيَةُ المُنَافِقِ ثَلاَثٌ : إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أخْلَفَ وَإِذَا اؤتُمِنَ خَانَ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত হল তিনটি ১. কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে তার খিলাফ করে, এবং আমানত রাখলে তা খিয়ানত করে। (বুখারী : ৩৩)

১৪.মুনাফিক লোকেরা দেরী করে নামায পড়ে

عَنِ العَلاَءِ بنِ عَبدِ الرَّحمَنِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلنَا عَلَى أَنَسِ بنِ مَالِكٍ بَعدَ الظُّهرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِن صَلاَتِهِ ذَكَرنَا تَعجِيلَ الصَّلاَةِ أَو ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله يَقُولَ تِلكَ صَلاَةُ المُنَافِقِينَ تِلكَ صَلاَةُ المُنَافِقِينَ تِلكَ صَلاَةُ المُنَافِقِينَ يَجلِسُ أَحَدهُم حَتَّى إِذَا اصفَرَّتِ الشمسُ فَكَانَت بَينَ قرنَى شَيطان أَو عَلى قَرنَىِ الشَّيطان قَامَ فَنقَر أَربَعا لاَ يَذكُرُ الله فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً

অর্থ: হযরত আলা ইবনে আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আনাস (রা.) -এর নিকট গেলাম তিনি বললেন, আমি রাসূল (সা.) কে একথা বলতে শুনেছি যে, দেরীতে আদায়কৃত নামায হলো মুনাফিকদের নামায। মুনাফিক আসরের নামাযের অপেক্ষায় বসে বসে দেরী করতে থাকে অবশেষে যখন সূর্য হলুদ হয়ে শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অথবা দুই শিংয়ের উপর চলে আসে, তখন সে নামাযে দাঁড়িয়ে চার বার ঠোক মারে। (আবু দাউদ : ৪১৩)

عَنْ اَبِىْ هُرَيَرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهُ انَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ  لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنْ صَلاَةِ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً متفقٌ عَلَيهِ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.)  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন। মুনাফিকদের জন্য ফজর এবং ঈশার নামায ভীষণ কঠিন। অথচ তারা যদি এই দুই নামাযের ফজিলত সম্পর্কে জানত, তাহলে হামাগুড়ী দিয়ে হলেও জামাআতে শরিক হতো। (বুখারী ৬৫৭, মুসলিম ১৫১৪)