পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম

পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম: আল্লাহ তা’আলা মানব জীন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য যেমন وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ আর ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে নামাজ । কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নিবেন।  নামাজ একটি ফরজ (আবশ্যিক) ইবাদত। তাই আমাদের আজকে আলোচনা করবো পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম

রাসূল (সা) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যারা সুন্দরভাবে আদায় করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে ৫টি বিশেষ পুরুস্কার দান করে, সম্মানিত করবেন-

(১) মৃত্যুও কষ্ট দূর করে দিবেন।

(২) কবরের শাস্তি থেকে মাফ করে দিবেন।

(৩) কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ডান হাতে আমাল নামা দান করবে।

(৪) তড়িৎ গতিতে পুলসিরাত পার করবেন।

(৫) বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবেন ।

অতএব নামাজ কিভাবে পড়তে হয় তা সঠিকভাবে শিখে নেওয়া জরুরী । রাসূল (সা.)-কে আল্লাহ তা’আলা জিব্রাইল (আ.)-এর মাধ্যমে নামাজ শিক্ষা দিয়েছেন যেমন:-

﴾فَسُبْحٰنَ اللهِ  حِیْنَ تُمْسُوْنَ وَ حِیْنَ تُصْبِحُوْنَ ﴿۱۷﴾  وَلَهُ الْحَمْدُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَعَشِیًّا وَّ حِیْنَ  تُظْهِرُوْنَ ﴿۱۸

সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাসবিহ আদায় কর, যখন সন্ধ্যায় (মাগরিব ও ইশার নামাজ দ্বারা) উপনীত হবে এবং সকালে (ফজর নামাজ দ্বারা) উঠবেন। আর অপরাহ্নে (আসর নামাজ দ্বারা) ও জোহরের সময়ে। আর আসমান ও জমিনে সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।’ (সুরা রূম : আয়াত ১৭-১৮)

ফরজ পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম

দৈনন্দি পাঁচ – ৫ ওয়াক্ত (নির্দিষ্ট নামাযের নির্দিষ্ট সময়) নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ ।

(১) ফজর – দুই রকাত ফরজ।

(২) জোহর – চার রাকাত ফরজ। (শুক্রবার জোহরের পরিবর্তে জুমার দুই রাকাত ফরজ পড়তে হয়)

(৩) আছর – চার রাকাত ফরজ।

(৪) মাগরিব – তিন রাকাত ফরজ।

(৫) এশা – চার রাকাত ফরজ ।

* সুন্নত ও ওয়াজিব নামাজ সম্পর্কে পরবর্তী আলোচনা করা হয়েছে।

নামাজের ওয়াক্ত

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কখন শুরু আর কখন শেষ হয়, হাদীসে তার সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা আছে। হাদীসের আলোকে বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই নামাজের সময় সূচীর স্থায়ী ক্যালেন্ডার তৈরী হয়েছে । পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় কখন শুরু হয়, এবং কখন শেষ হয়? দেশিও ক্যালেন্ডার থেকে আমরা যেনে নিতে পারি ।

ফরজ পূর্ণাঙ্গ নামাজ আদায় করার নিয়ম

পবিত্রতা অর্জ করে নামাজের নিয়্যত করা, আপনি কোন ওয়াক্তের নামাজ পড়ছেন মনে মনে নিয়্যত থাকাই যথেষ্ট। তবে তার সাথে সাথে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম কাজ। অতপর ক্বিবলামুখি হয়ে দাড়াবেন, দুই পায়ের গুড়ালি বরাবর দাড়াবেন এবং দুই পায়ের মাঝে চার আংগুল পরিমাণ ফাকা রাখবেন। তারপর তাকবীরে তাহরীমা অর্থাৎঃ-

الله اڪبر (আল্লাহু আকবার) বলে উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাবেন। এ ক্ষেত্রে হাতের আংগুলগুলো সাভাবিক অবস্থায় কিবলা মুখি থাকবে আর উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উভয় কানের লতি বরাবর রাখবেন। এরপর হাত নামিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা আঙ্গুলি দ্বরা বাম হাতের কবজি ধরবেন আর বাকী আঙ্গুলগুলো বাম হাতের উপর রাখবেন। অতঃপর নাভির নিচে বাধবেন । দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রাখবেন। তারপর ছানা পড়বেন

سُبْحَانَڪَ اللّهُمَّ وَبِحَمْدِڪَ وَتَبَارَڪَ السْمُڪَ وَتَعَالٰى جَدُّڪَ وَلَا اِلٰهَ غَي

উচ্চারণঃ সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবিহামদিকা ওতাবারকাসমুকা ওতাআলা জাদ্দুকা ওলাইলাহা গাইরুকা
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা , আপনার প্রশংসা, আপনার নাম সর্বউচ্চে, আপনার শক্তি মহান, আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই।

এরপর সূরা ফাতেহা পড়বেন

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾  الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾  مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾ اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾ اِهْدِ نَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬ غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَلَا الضَّآ لِّیْنَ (۷)  

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আররহমানির রহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, ইয়্যাকানা’বুদু অইয়্যাকানাসতাইন। ইহদিনাছছিরতল মুসতাকীম। ছিরতল্লাযিনা আনআ’মতা আলাইহিম গইরিল মাগধুবি আলাইহিম। অলাদ্দল্লিন।

অর্থঃ

(১) সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালন কর্তা।

(২) যিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

(৩) যিনি বিচার দিবসের মালিক।

(৪) আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।

(৫) আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ দেখান,

(৬) সে সমস্ত লোকদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন ।

(৭) তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি আপনার আজাব নাযিল হয়েছে ও তারা ভ্রষ্ট হয়েছে।

তারপর কুরআন শরীফ থেকে একটি সূরা তেলাওয়াত করবেন।

তারপর তাকবীর বলে রুকুতে যাবেন, হাতের আংগুলগুলো ফাকা রেখে দুই হাত দ্বারা উভয় হাটুকে ভালভাবে আকড়ে ধরবেন। এবং মাথা, পিঠ ও মাজা সমান থাকবে কোন উঁচু নিচু থাকবে না। রুকুতে থাকা অবস্থায় দৃষ্টি থাকবে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে। তারপর রুকুর তাসবীহ পড়বে।

ُسُبْحَانَ رَبيَ الْعَظِيْم উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম, অর্থঃ আমার মহান প্রতি’পালক পবিত্র।

তিন বার পড়বে। তবে পাঁচ বার , সাত বারও পড়তে পারবেন। তারপর سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدهَ উচ্চারণঃ সামিয়াল্লাহুলিমান হামিদাহ ।
অর্থঃ যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন।) বলে রুকু থেকে সুজা হয়ে দাড়াবেন। তারপর اَللهُ اَڪْبَرُ বলে সেজদায় যাবেন ।
সেজদায় যাওয়ার সময় দুই হাতে হাটু ধরে সর্বপ্রথম উভয় হাটু একত্রে জমীনে রাখবেন। তারপর হাতের আঙ্গুলগুলো মিলানো অবস্থায় দুই হাত জমীনে একত্রে রাখবেন। এবং চেহারার চওড়া অনুযায়ী দুই হাতের মাঝে ফাঁকা রাখবেন।তারপর দুই হাতের মাঝে সেজদা করবেন প্রথমে নাক তারপর কপাল রাখবেন উভয় হাতের শধ্যখানে বৃদ্ধ আঙ্গুলদ্বয়ের বরাবরে নাক রাখবেন ।

নজর নাকের উপর রাখবেন । পুরুষের পেট রান থেকে বাহু পাজর থেকে হাতের কনুই জমীন থেকে পৃথক রাখবেন। পায়ের আঙ্গুল সমূহকে কিবলামুখী করে রাখবেন এবং দুই পায়ে গুড়ালি মিলিয়ে না রেখে বরং টাকনু কাছা কাছি রাখবেন। যথা সম্ভব পায়ের আঙ্গুলগুলো জমীনের সাথে চেপে ধরে আঙ্গুলের অগ্রভাগ ক্বিবলার দিকে রাখবেন। সেজদার মধ্যে তিন বার سُبْحاَنَ رَبِّيَ الْاعْلى পড়বেন। তবে পাঁচ বার , সাত বার পড়তে পারেন। (উচ্চারণঃ সুবহানা রব্বিয়াল আয়লা । অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালক মহা পবিত্র।) তিনবার সাতবারও পড়তে পারবেন।

তারপর اَللهُ اَڪْبَرُ বলে সেজদা থেকে উঠে বসবেন। প্রথম কপাল তারপর নাক তারপর হাত উঠাবেন। তারপর বাম পা জমীনে বিছিয়ে তার উপর বসবেন। আর ডান পা দার করিয়ে রাখবেন ।

পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে জমীনে রাখবে। দুই হাত উভয় রানের উপর রাখবে। হাতের আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁকা রেখে আঙ্গুলের মাথার অগ্রভাগ হাটুর কিনারা বরাবর রাখবেন।

তারপর اَللّهُمَّ اِغْفِرْلِىْ وَرْحَمْنِيْ وَارْزُقْنِيْ وَاهْدِنِىْ পড়বেন। তারপর الله اڪبر বলে দ্বিতীয় সেজদা করবেন। দ্বিতীয় সেজদা শেষ করে আবার الله اڪبر বলে সেজদা থেকে সুজা দাড়িয়ে যাবেন।

তারপর দ্বিতীয় রাকাতেও ঠিক প্রথম রাকাতের মতই । প্রথম সূরা ফাতেমা পড়বেন । তারপর একটি সূরা মিলাবেন। যেমন সূরা কুরাইশ

لِاِیْلٰفِ قُرَیْشٍ ۙ﴿۱﴾ الٰفِهِمْ  رِحْلَۃَ  الشِّتَآءِ  وَ الصَّیْفِ ۚ﴿۲﴾  فَلْیَعْبُدُوْا  رَبَّ هٰذَا الْبَیْتِ ۙ﴿۳﴾  الَّذِیْۤ  اَطْعَمَهُمْ  مِّنْ جُوْعٍ ۬ۙ وَّ اٰمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ (۴) 

উচ্চারণঃ লইিলাফী কুরাশনি ইলাফিহিম রিহলাতাশশিতাই অছছইফ ফালইয়াবদু রব্বা হাজাল বাইত আল্লাজি আতআমাহুম মিনজু অআমানাহুম মিন খউফ

অর্থঃ (১) কোরায়েশের আসক্তির কারণে, (২) আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। (৩) অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার । (৪) যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে রিাপদ করেছেন।

তারপর প্রথম রাকাতের মতই রুকু সেজদা করবেন। দুটি সেজদা শেষ করে দুই সিজদার মাঝে বসার ন্যায় বসবেন এবং দুই হাত রানের উপর হাটু বরারব রাখবেন । আর দৃষ্টি থাকবে কোলের দিকে।
তারপর তাশাহ্হুদ পড়বেন।

التَّحِيَّاتُ لِلهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ، أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًاعَبْدُهُ وَرَسُولُهُ‏.‏

উচ্চারণঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি অছ্ছলাওয়াতু অত্তয়্যিাবাতু আস্সালা মু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু অরহমাতুল্লাহি অবারকাতুহু আস্সালামু আলানা অআলা ইবাদিল্লাহিছ্ছলিহীন আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরসূলুহু। অর্থঃ মৌখিকভাবে পেশকৃত যাবতীয় সম্মান, অভিবাদন, শরীরিক, আর্থিক সকল ইবাদত আল্লাহ তায়ালার জন্য নিবেদিত । হে নবী! আপনার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি রহমত, বর্কত বর্ষিত হোক, শান্তি আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দার প্রতি বর্ষিত হোক, আমি সাক্ষ দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই এবং সাক্ষ দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল ।

তাশাহ্হুদ পড়ার সময় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা অঙ্গুলি দ্বারা হালকা বানাবেন এবং َاَشْهَدُ اَلَّا اِله বলার সময় শাহাদাত অঙ্গুলি উঠাবেন الا الله বলার সময় নামিয়ে ফেলবেন। বাকী দুটি আঙ্গুল তালুর সাথে মিলিয়ে রাখবেন।
নামাজ যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তাশাহ্হুদের পরে দুরুদে ইবরাহিম পড়বেন।

اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وعَلى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ على إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدُ، اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউঅআলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হিম, ইন্নাকাহামিদুম মাজিদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউঅ আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা আলা ইবরা-হিমা অ আলা আ-লি ইবরা-হিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! শান্তি বর্ষণ করুন, মুহাম্মদ (সা) এর উপর এবং মুহাম্মদ (সা) এর পরিবার বর্গের উপর , যেমনি ভাবে শান্তি বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম (আ) এর উপর ও ইব্রাহীম (আ) এর পরিবার বর্গের উপর শান্তি বর্ষিত করেন নিশ্চই তুমি প্রশংসিত, হে আল্লাহ বরকত দান করুন মুহাম্মদ (সা) এর উপর এবং মুহাম্মদ (সা) এর পরিবার পরিজনের উপর, যেমনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহীম (আ) এর উপর এবং ইব্রাহীম (আ) এর পরিবার পরিজনের উপর, নিশ্চই তুমি প্রশংসিত।

তারপর দোয়ায়ে মাছুরা পড়বেন।

اللهم إني ظلمت، نفسي ظلما كثيرا، ولا يغفر الذنوب، إلا أنت فاغفرلي مغفرة من عندك، وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফছি জুলমান কাসিরান ওলা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরতাম মিন ইন্দিকা ইন্নাকা আন্তাল গফুরুররহীম।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার উপর অনেক জুলুম করেছি, আপনি ব্যতীত কেউ ক্ষমাশীল নাই, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন । নিশ্চই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

অতপর السَّلَامُ عَلَيْڪُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ ( আস্সালামু আলাইকুম ওরহমাতুল্লাহ) বলে সালাম ফিরাবে । প্রথমে ডান পাশে অতপর বাম পাশে। সালাম ফিরানোর সময় দৃষ্টি থাকবে কাঁধের দিকে ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় ডান কাঁধের দিকে আর বাম পাশে সালাম ফিরানোর সময় বাম কাঁধের দিকে। ডান পাশে সালাম ফিরানোর সময় সালামের দ্বারা নিয়্যত থাকবে ডান পাশের ফেরেশতাদের আর বাম পাশে সালাম ফিরানোর সময় নিয়্যত থাকবে বাম পাশের ফেরেশতাদের সালাম করা ।
আর যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয়, তাহলে দুই রাকাতের পর যে বৈঠক হবে তা প্রথম বৈঠক বিসাবে বিবেচিত হবে। এই প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়ে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে যাবে আর তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়বেন কিন্তু কোন সূরা মিলাবে না। তৃতীয় রাকাত শেষ করে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফদোয়ায়ে মাছুরা পরে সালাম ফিরাবেন।

আর যদি চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হয়, তাহলে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহ্হুদ পড়বেন তারপর আরো দুই রাকাত পড়বেন।আর এই দুই রাকাতে শুধু সূরা ফাতেহা পড়বেন, কোন সূরা মিলাবেন না। চতুর্থ রাকাতের পরে শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ এবং দোয়ায়ে মাছুরা পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

সুন্নত নামাজের নিয়ম

(১) ফজরের ফরজের পূর্বে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

(২) জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও ফরজের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

(৩) জুমার ফরজের আগে চার রাকাত ও ফরজের পরে চার রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

(৪) আছরের নামাজে কোন সুন্নত নাই।

(৫) মাগরিবের ফরজের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

(৬) এশার ফরজের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নত।

সুন্নত নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয়। কোন ধরনের ওজর ছাড়া সুন্নতগুলো তরক কারী গুনাহগার হবে।

সুন্নত নামাজ পড়ার নিয়ম

সুন্নত নামাজের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা মিলাতে হবে, বাকী সকল নিয়ম অন্যান্য নামাজের মতই। সুন্নত নামাজ যদি সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা ও নফল হয় এবং চার রাকাত বিশিষ্ট হয় , তাহলে দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহ্হুদের পরে দুরুদ শরীফদু‘আয়ে মাছুরা পড়াও উত্তম ।

জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের নিয়ম


ইমামের পেছনে যারা ইক্তেদা করে তাদেরকে মুক্তাদি বলে । মুক্তাদিগন ইমামের তাকবীরে তাহরীমা বলার পর তাকবীর বলে কান বরাবর হাত উঠাবেন । তারপর হাত বাঁধবেন । অতঃপর ছানা পড়ে চুপ করে ইমামের ক্বেরাত একাগ্র চিত্তে শুনতে থাকবেন আর যদি ইমামের ক্বেরাত পড়া স্পষ্ট শোনা না যায় তাহলে আল্লাহ পাকের প্রতি মনোনিবেশ করার চেষ্টা করবেন। ইমাম যখন রুকু সেজদার জন্য তাকবীর বলবেন মুক্তাদিগনও অনুচ্চ আওয়াজে তাকবীর বলে ইমাম সাহেবকে অনুরণ করবেন । ইমাম সাহেব যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে রুকু থেকে উঠবেন মুক্তাগণ তখন রাব্বানা লাকাল হামদু বলে ইমামের পরে রুকু থেকে সুজা হয়ে দাড়াবেন।
প্রত্যেক রুকু ও সেজদায় মুক্তাদিগণও রুকু-সেজদার তাসবীহ পড়বেন । এবং প্রথম বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়বেন এবং দ্বিতীয় বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়বে । তারপর ইমামের সঙ্গে ডানে ও বামে সালাম ফিরাবে।

ওয়াজিব নামাজের নিয়ম

বিতর আর দুই ঈদের নামাজ ওয়াজিব।

বিতরের নামাজ তিন রাকাত। বিতরের নামাজের ওয়াক্ত হলো, এশার নামজ আদায় করার পর থেকে সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত । এ ওয়াক্তের (সময়ের) মধ্যে যে কোন সময় বিতরের নামাজ আদায় করতে হয়। যদি শেষ রাতে জাগার অভ্যাস থাকে তাহলে শেষ রাতে বেতরের নামাজ আদায় করা উত্তম । আর জাগ্রত হওয়ার অভ্যাস না থাকলে ঘুমানোর পূর্বেই বিতরের নামাজ আদায় করে নিবে ।

বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম

বিতরের নামাজের তিন রাকাতেই সূরা ফাতেহার পরে সূরা মিলানো ফরজ। আর তৃতীয় রাকাতে ক্বেরাত পড়ার পর الله اڪبر বলে কান বরাবর হাত উঠিয়ে আবার নাভীর নিচে হাত বেধে দোয়ায়ে কুনুত পড়বেন।

اللّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ، وَنَسْتَغْفِرُكَ، وَنُؤْمِنُ بِكَ، وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ، وَنُثْنِيْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ، وَنَشْكُرُكَ، وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ، وَنَتْرُكُ، مَنْ يَّفْجُرُكَ، اللّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّيْ، وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعٰى، وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشٰى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ، بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাইন্না নাসতাইনুকা, ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নুমিনুবিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা, ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা, ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাঊ, ওয়া নাতরুকু, মাইঁইয়াফঝুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু, ওয়া লাকানুসাল্লি, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাসয়া, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাকা, ইন্না আজাবাকা, বিলকুফফারি মুলহিক্ব।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার উপরই আমরা ঈমান এনেছি এবং আপনার উপরই ভরসা করি, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার শোকর আদায় করি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হই না, যারা আপনার নাফরমানী করে থাকে, তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদাত করি , এবং আপনার জন্যই নামাজ পড়ি থাকি এবং আপনার জন্যই সিজদা করি , আপনার দিকেই ধাবিত হই, আপনার হুকুম পালনের জন্যই সদা প্রস্তুত থাকি, আপনার দয়ার আশা করি, আপনার শাস্তিকে ভয় পাই, নিঃসন্দেহে আপনার শাস্তি ভোগ করবে কাফির সম্প্রদায়ের লোকজন।

দুই ঈদের নামাজের নিয়ম

অন্যান্য নামাজের সাথে ঈদের নামাজের কিছু পার্থক্য আছে , দুই রাকাতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবীর বলতে হয়। প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলবেন। প্রত্যেক তাকবির বলার সময় দুই হাত কান বরাবর তুলে নাভির নিচে না বেধে নিচের দিকে ছেড়ে দিবে। তিন তাকবীর বলা শেষ হলে নাভির নিচে হাত বাঁধবেন। আর দ্বিতীয় রাকাতে ক্বেরাতের পর অতিরিক্ত তিন তাকবির বলবে একই নিয়মে তারপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যাবেন। বাকী সব নিয়ম অন্য নামাজের মতই।

মহিলাদের নামাজের নিয়ম

মহিলাদের নামাজের নিয়ম প্রায় সবই পুরুষের নামাজের মতই, তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যবধান আছে তা হলো, দাড়ানো অবস্থায় দুই পা মিলিয়ে রাখবেন । তাকবীরে তাহরীমা (শুরু তে হাত তুলে নামাজের নিয়ত করা)বলার সময় মহিলারা কাধ পর্যন্ত হাত উঠাবেন। তারপর বুকের উপর হাত বাধবেন, বাম হাতের পিঠের উপর ডান হাতের তালু রাখবে । রুকুতে পুরুষের মত উভয় হাতে হাটুতে ভাল করে ধরবেন না বরং দুই হাতের আংগুল মিলিত রেখে হাটুকে স্পর্স করবেন এবং দুই পায়ের টাখনু মিলিয়ে রাখবেন । পুরুষের রুকুর মত মাথা পিঠ ও মাজা সমান রাখবেন না । সেজদার মাঝে মহিলারা দুই পা বাম দিক দিয়ে বের করে ডান নিতম্বের উপর বসবেন তারপর হাত মিলিয়ে সেজদা করবেন। পেট রানের সাথে মিলিয়ে বাহু পাজরের সাথে মিলিয়ে এবং হাতের কনুই জমিনের সাথে মিলিয়ে যথা সম্ভব জমিনের সাথে চেপে ধরে সেজদা করবেন । বসার সময় দুই পা বাম দিকে বের করে দিয়ে ডান নিতম্বের উপর বসবেন। মহিলাদের নামাযের বাকী নিয়ম পুরুষের নামাযের মতই একই।

এটা হলো পূর্ণাঙ্গ নামাজের নিয়ম তবে নামাজের পূর্বে পবিত্রতা বিষয়ে জানা অত্যন্ত জরুরী