কুরআন হাদীসে ভবিষ্যৎ নিয়ে উক্তি

পবিত্র কুরআন হাদীসে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক উক্তি আছে তার মধ্যে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হলো,

পারস্যের উপর রোমের জয়

পারস্য আর রোম ছিলো তখনকার সময়ের সুপার পাওয়ার, বর্তমান সময়ে যেমন আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, আমি যদি ভবিষ্যদ্বাণী করি, ভবিষ্যতে আমেরিকা চীনে রাশিয়ার উপর বিজয় লাভ করবে, অতপর বাংলাদেশ আমেরিকার উপর বিজয় লাভ করবে, তাহলে কেউ কি বিশ্বাস করবেন? নাকি আমাকে মিথ্যুক বা পাগল মনে করবেন। কারণ বাংলাদেশ আমেরিকার সাথে ‍যুদ্ধে জয় সম্ভব না, কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণীটা ছিলো অনেকটা তেমনি ঐ সময়ে, কারণ যাযাবর আরব সুপারপাওয়ার রোম পারস্যের সাথে বিজয় কিভাবে সম্ভব? কিন্তু কুরআন যে আল্লাহবাণী তাই তা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।

الٓـمّٓ  ۚ﴿۱﴾ غُلِبَتِ الرُّوْمُ ۙ﴿۲﴾  فِیْۤ  اَدْنَی الْاَرْضِ وَ هُمْ مِّنْۢ  بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَیَغْلِبُوْنَ ۙ﴿۳﴾  فِیْ بِضْعِ سِنِیْنَ ۬ؕ لِلّٰهِ الْاَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَ مِنْۢ بَعْدُ ؕ وَ یَوْمَئِذٍ یَّفْرَحُ الْمُؤْمِنُوْنَ ۙ﴿۴﴾  بِنَصْرِاللهِ ؕ یَنْصُرُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۙ﴿۵﴾  وَعْدَ اللهِ ؕ لَا یُخْلِفُ اللهُ  وَعْدَهٗ وَلٰکِنَّ  اَكْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۶﴾

অর্থ: (১) আলিফ-লাম-মীম।  (২) রোমানরা পরাজিত হয়েছে। (৩) নিকটস্থ ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে। (৪) কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্বের ও পরের সব ফয়সালা আল্লাহরই আর সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে। (৫) আল্লাহর সাহায্যে, তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।  (৬) আল্লাহর ওয়াদা, আল্লাহ তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না। (সূরা রুম :১-৬)

ফেরাউনের লাশ সংগ্রহ

১৮৯৮ সালে ফেরাউনের লাশ উদ্ধার করা হয়, বলা হয়ে থাকে সেই কুরআনে বর্ণিত ফেরাউন , যার লাশ এখনো মিশরের কায়রো জাদুঘরে আছে। প্রায় তিন হাজার বছরে ধরে তার লাশ অক্ষত আছে, এটাও কি সম্ভব যে ১৪ শত বছর আগে একজন আরব উম্মী নবী ভবিষ্যত বাণী করবে আর তা বাস্তব হবে, সর্বজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষেই সম্ভব। যেমন আয়াতগুলো হলো:-

 وَ جٰوَزۡنَا بِبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡبَحۡرَ فَاَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ وَ جُنُوۡدُهٗ بَغۡیًا وَّ عَدۡوًا حَتّٰۤی اِذَاۤ اَدۡرَکَهُ الۡغَرَقُ قَالَ اٰمَنۡتُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا الَّذِیۡۤ اٰمَنَتۡ بِهٖ بَنُوۡۤا اِسۡرَآءِیۡلَ وَ اَنَا مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۹۰﴾ آٰلۡـٰٔنَ وَ قَدۡ عَصَیۡتَ قَبۡلُ وَ کُنۡتَ مِنَ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ﴿۹۱﴾ فَالۡیَوۡمَ نُنَجِّیۡکَ بِبَدَنِکَ لِتَکُوۡنَ لِمَنۡ خَلۡفَکَ اٰیَۃً وَ اِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ عَنۡ اٰیٰتِنَا لَغٰفِلُوۡنَ ﴿۹۲﴾

অর্থ: (৯০) আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফিরআউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, আমি ঈমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যার প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। (৯১) এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত। (৯২) সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফেল।

আল্লাহ কুরআনকে হেফাজত করবেন

 اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوۡنَ ﴿۹﴾

অর্থ: নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হেফাযতকারী।  (সূরা হিজর : ৯)

আল্লাহর বাণী কুরআন কে সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত এর মধ্যে বিন্দু পরিমাণ পরিবর্তন-পরিবর্ধন না হয়ে তা সংরক্ষিত থাকবে। আল্লাহ তাঁর এ ওয়াদা এভাবে পূরণ করেছেন যে, প্রত্যেক যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিলেন এবং রয়েছেন, যাঁরা কুরআনকে এমভাবে তাঁদের স্মৃতিপটে ধারণ করেছেন যে, এর প্রতিটি যের-যবর তথা স্বরচিহ্ন পর্যন্ত অবিকৃত রয়েছে। নাযিলের সময় থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে এ কিতাবের মধ্যে সামান্যতম কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন বা বিকৃতি ঘটেনি।
আল্লাহ তাআলা কুরআনকে মুখস্থ রাখার জন্য সহজসাধ্য করে দিয়েছেন। এটা একমাত্র কুরআনেরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কুরআনের মত এত বিশাল গ্রন্থ তো দূরের কথা পৃথিবীর ছোট বড় আর কোন গ্রন্থই এভাবে কেউ মুখস্থ রাখে না বা রাখতে পারে না। এমন কি বাইবেল, তাওরাত, বেদ, ত্রিপিটক ইত্যাদি কোন ধর্মগ্রন্থও এভাবে মুখস্থ রাখা সম্ভব নয়। সারা দুনিয়ায় এ সব গ্রন্থের একজন হাফিযও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

মুশরিক কুরাইশরা বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না

 وَ اِنۡ کَادُوۡا لَیَسۡتَفِزُّوۡنَکَ مِنَ الۡاَرۡضِ لِیُخۡرِجُوۡکَ مِنۡهَا وَ اِذًا لَّا یَلۡبَثُوۡنَ خِلٰفَکَ اِلَّا قَلِیۡلًا ﴿۷۶﴾

অর্থ: এ ভূখন্ড থেকে তোমাকে উৎখাত করে এখান থেকে বহিষ্কার করার জন্যে তারা বদ্ধপরিকর হয়েছিল। কিন্তু যদি তারা এরূপ করে তাহলে তোমার পরে স্বয়ং তারা এখানে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। (সূরা বানী ইসরাইল: ৭৬)
এ সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হয় তখন তা বাস্তব রূপ লাভ করার কোন আলামতই দেখা যাচ্ছিল না; কিন্তু দশ বছরের মধ্যে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়। মুষ্টিমেয় ইমানদারদের উপর কুরাইশদের অত্যাচার তখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অত্যাচার, নির্যাতনের কারণে অনেককেই হিযরত করতে হয়েছে। এ সূরা নাজিল হবার এক বছর পর নবী (সঃ) কে তারা মক্কা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে। বের করে দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি। নবী (সাঃ) ও তাঁর আন্দোলনকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য সমগ্র আরবের মুশরিকরা জোটবদ্ধ হয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। এতদসত্ত্বেও তাদের সকল আয়োজন ব্যর্থ হয়। মক্কা থেকে চলে যাবার পর আট বছরকাল অতিবাহিত না হতেই নবী (সাঃ) বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। তারপর দু’বছরের মধ্যেই সমস্ত আরব ভূখণ্ড থেকে মুশরিকদের অস্তিত বিলুপ্ত হয়। যারাই তখন সেখানে অবস্থান করছিল মুসলিম হিসেবেই করছিল। মুশরিকদের কোন স্থানই সেখানে ছিল না।

ইসা (আ) এর আগমন

 اِذۡ قَالَ اللّٰهُ یٰعِیۡسٰۤی اِنِّیۡ مُتَوَفِّیۡکَ وَ رَافِعُکَ اِلَیَّ وَ مُطَهِّرُکَ مِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَ جَاعِلُ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡکَ فَوۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ثُمَّ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ فِیۡمَا کُنۡتُمۡ فِیۡهِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۵۵﴾

অর্থ: স্মরণ কর যখন আল্লাহ বললেন হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব, তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব। আর যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত অবিশ্বাসীদের উপরে প্রাধান্য দেব। অতঃপর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন আমি তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেব, যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ করতে’ । (সূরা আলে ইমরান : ৫৫)
খ্রিস্টানরা ঈসা (আঃ) এর প্রতি বিশ্বসী কিন্তু শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি বিশ্বসী নয়। ইহুদিরা শেষ দুই নবী ইসা (আঃ) ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি বিশ্বসী নয়। তারা নিজেদেরকে হযরত মূসা (আঃ) এর অনুসারী বলে দাবি করে। পক্ষান্তরে একমাত্র মুসলিমরাই, মূসা ও ঈসা সহ সকল নবীর প্রতি সমান বিশ্বাসী।
মূসা ও ঈসা (আঃ) এর বিধানগুলোর মধ্যে এটিও একটি বিধান ছিল যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) এর আগমনের পর সবাইকে তাঁর প্রতি ঈমান আনতে হবে। কিন্তু ঈহুদী ও খ্রিস্টানদের কেউ তা করে নি। ফলে তারা হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
খ্রিস্টানগণ ঈসার নবুওয়াতে বিশ্বসী হলেও সে বিশ্বাসে কিছু ভ্রান্তি আছে। ঈসা (আঃ) পুনরায় পৃথিবীতে যখন ফিরে আসবেন তখন তাদের এ ভ্রান্তি দূর হবে। ইহুদিরা ঈসা (আঃ) এর প্রতি যে কেবল ঈমান আনে নি তাই নয় বরং ঈসা (আঃ) এর
পুণ্যবতী মাতা মারইয়াম যিনি নারী জাতির শ্রেষ্ঠ চারজনের একজন তাঁর প্রতিও মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছিল। বিনা পিতায় জন্ম, কুমারী মায়ের সন্তান, ঈসা (আঃ) ছিলেন ইহুদিদের জন্য সুস্পষ্ট মুজিজা (miracle) যেন তারা ঈসার (আঃ) প্রতি ঈমান আনে। ইহুদিরা তা করেনি বরং তারা ঈসা (আঃ) কে শুলে বিদ্ধ করে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজের কাছে তুলে নেন বলে এ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি চতুর্থ আসমানে অবস্থান করছেন। কিয়ামতের পূর্বে তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। উক্ত আয়াতে কৃত অঙ্গীকারের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে দুই হাজার বছরের অধিককাল ধরে ইহুদি জাতির বিপক্ষে খ্রিস্টান ও মুসলমান জাতি সর্বদাই বিজয়ী রয়েছে এবং এতকাল ধরে আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ঈমান শব্দের অর্থ কি, ঈমান সম্পর্কে আয়াত হাদীস

ইখলাস ও নিয়ত কাকে বলে?

আধুনিক যানবাহন ও প্রযুক্তি

 وَّ الۡخَیۡلَ وَ الۡبِغَالَ وَ الۡحَمِیۡرَ لِتَرۡکَبُوۡهَا وَ زِیۡنَۃً وَ یَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۸﴾

অর্থ: আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া খচ্চর ও গাধা তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন কিছু যা তোমরা জান না।

উল্লেখিত আয়াতে তৎকালীন যুগের মানুষের স্থলপথের তিনটি বাহন ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই সূরার ১২ নং আয়াতে জলযানের (জাহাজ বা নৌকা) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কয়টি ছিল কুরআন নাজিল হওয়ার সময় পর্যন্ত মানুষের প্রধান বাহন। সে যুগের মানুষের বর্তমান যুগে আবিষ্কৃত যানবাহন মোটরগাড়ি, ট্রেন, উড়োজাহাজ, রকেট ইত্যাদি সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না। তারা জানতো না যে ভবিষ্যতে কী কী যানবাহন আবিষ্কার হবে। এ সব যানবাহন আবিষ্কার হবার প্রায় ১৩০০ বছর পূর্বেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ভবিষ্যতেও যে সব যানবাহন আবিষ্কৃত হবে সেগুলোও এর অর্ন্তভূক্ত।
কুরআন হাদীসের পঁয়ত্রিশটি ভবিষ্যদ্বাণী ৭৪
কুরআনের বর্ণনা ভঙ্গী থেকে জানা যায়, এ সব যানবাহন মানুষ সৃষ্টি করেনি। এগুলো আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। কারণ এ সব যানবাহনের কলকজা (Parts) তৈরি করা হয়েছে প্রকৃতি সৃজিত ধাতব পদার্থ দিয়ে। বিজ্ঞানীরা তাতে প্রকৃতি প্রদত্ত বায়ু, পানি, অগ্নি ইত্যাদি থেকে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি করেছে কিংবা প্রকৃতি প্রদত্ত জ্বালানি তেল এসব যানবাহনে ব্যবহার করেছে। প্রাচীন বা আধুনিক বিজ্ঞান একজোট হয়েও কোন লোহা, তামা ইত্যাদি ধাতব পদার্থ তৈরি করতে পারে না। এমনি ভাবে বায়ু, পানি, আগুন ইত্যাদি সৃষ্টি করাও তাদের সাধ্যের অতীত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, সামান্য একটি মাছিও তৈরি করার সাধ্য কারো নাই। কাজেই সামান্য চিন্তা করলেই একথা স্বীকার করতে হয় যে, যাবতীয় আবিষ্কার প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি।
এখানে প্রণিধানযোগ্য যে, পূর্বোক্ত সব বস্তুর সৃষ্টির ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের অতীত কাল ব্যবহৃত হয়েছে এবং অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পদবাচ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রিয়াপদের এ পরিবর্তন থেকে ফুটে উঠেছে যে, এ আয়াত নাজিল হওয়ার সময় পর্যন্ত ঐ সমস্ত যানবাহনের অস্তিত্ব ছিল না যা পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয়েছে অথবা ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হবে।

কনস্টান্টিনোপল বিজয়

قالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم (لَتُفْتَحَنَّ القُسطَنْطِينِيَّةُ فلنعمَ الأميرُ أميرُها ولنعمَ الجيشُ ذلك الجيش).

অর্থ: ক্বাল রাসূলুল্লাহি ওয়াসাল্লামা “অবশ্যই কনস্টান্টিনোপল বিজয় করা হবে, সেই আমীর কতইনা উত্তম আমীর, আর কতইনা উত্তম সেই সৈন্যবাহিনী” (মুসনাদে আহমদ)

নূরানী পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা

দাজ্জালের আবির্ভাব হবে

إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنْ التَّشَهُّدِ الْآخِرِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

অর্থ: তোমাদের কেউ যখন সালাতের শেষ তাশাহুদ পাঠ শেষ করবে, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় চায়। হে আল্লাহ! জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মরণের ফিতনা থেকে এবং মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা থেকে (সহীহ মুসলিম ৫৮৮, আবূ দাউদ ৯৮৩)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَهُ أَوْ مَنْكِبِهِ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَاهُنَا»، أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ، يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ

অর্থ: মুয়ায ইবনু জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতীনিয়া বিজিত হবে এবং কুসতুনতীনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তার ঊরুতে বা কাঁধে নিজের হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করে বলেন, এটা নিশ্চিত সত্য, যেমন তুমি এখানে উপস্থিত, যেমন তুমি এখানে বসা আছো। অর্থাৎ তিনি মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে লক্ষ করে বলেন।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও অনেক উক্তি কুরআন হাদীসে পোস্ট বড় হয়ে যাওয়ায় পরে অন্য কোন লেখাতে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *