ওহী কাকে বলে

ওহী কাকে বলে: وحى -এর আভিধানিক অর্থ প্রত্যাদেশ, ঐশী বাণী, অবহিত করা, বার্তা-পাঠানো, আদেশ দেয়া ইলম দান করা। আর পরিভাষায় ওহী বলা হয় : আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে যুগে যুগে স্বীয় নবী রাসূল গণের উপর যেসব আদেশ নিষেধ বা কালাম প্রেরণ করেছেন। তাকেই ওহী বলে। ওহী আবার দু’প্রকার।

এক: প্রকার ওহী হচ্ছে : وحى متلو অর্থাৎ, পবিত্র কুরআন যার ভাব ও ভাষা উভয়ই আল্লাহ তায়ালার হযরত জীবরাঈল (আ.) যেভাবে পাঠ করে শুনিয়েছেন রাসূল (সা) হুবহু সেভাবেই তা প্রকাশ করেছেন।

দ্বিতীয়: প্রকার হচ্ছে وحى غير متلو অর্থাৎ হাদীস। যার ভাব আল্লাহ তায়ালার, কিন্তু রাসূল (সা) নিজের ভাষায় নিজের কথায় এবং নিজের কাজ ও সম্মতির মাধ্যমে তা প্রকাশ করেছেন। আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কুরআন এবং রাসূল (সা)-এর হাদিস উভয়ই ওহী। একটি প্রত্যক্ষভাবে প্রাপ্ত ওহী, আরেকটি পরোক্ষভাবে প্রাপ্ত ওহী। আল্লাহ তায়ালা ইসলামের যেসব বিধি-বিধান সংক্ষিপ্তভাবে কুরআনে পেশ করেছেন বা ইংগিত প্রদান করেছেন। রাসূল (সা) তার বাস্তবায়ন পদ্ধতি সবিস্তারে হাদীসে বলে দিয়েছেন। সারকথা হচ্ছে রাসূল (সা)-এর হাদীসগুলোই হচ্ছে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা। তাই কুরআনের মর্ম উপলব্ধি করে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হলে হাদীসের ইলম থাকা আবশ্যক। বুখারী শরীফের মধ্যে তিনভাবে ওহী প্রেরণের কথা উল্লেখ থাকলে তা আবার অন্য হাদীসের মধ্যে ওহির কয়েকটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে

১. اَلْقَاءُ فِىْ الْقَلْبِ অন্তরে ঢেলে দেয়ার মাধ্যমে ওহী আসত।

২. رُوْيَاصَادَقةِ  সত্যস্বপ্ন।

৩. صِلْصَةُ اَلْجَرِنَسْ ঘন্টির আওয়াজের সুরতে।

৪.  تَمَثَلُ اَلنّاسِ মানুষের রূপধারণ করে।

৫. الْمُلْكِ تَمَثَلُ ফেরেশতার নিজস্ব আকৃতিতে।

৬. منوراء حجاب পর্দার আড়াল থেকে।

কখনও নবীজীর কাছে দাহইয়াকালবী সাহাবীর রূপ ধারণ করে ফেরেশতা আসতেন।

১.ওহীর মাধ্যমেই নবী রাসূলগণ আল্লাহর সাথে কথা বলতেন

وَ مَا کَانَ  لِبَشَرٍ اَنْ یُّکَلِّمَهُ اللهُ  اِلَّا وَحْیًا اَوْ مِنْ وَّرَآیِٔ حِجَابٍ اَوْ یُرْسِلَ رَسُوْلًا فَیُوْحِیَ بِاِذْنِهٖ مَا یَشَآءُ اِنَّهٗ عَلِیٌّ  حَکِیْمٌ ۵۱

অর্থ : কোন মানুষের এ ক্ষমতা নেই যে, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল কিংবা দূত মারফত ছাড়া আল্লাহ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই প্রেরণ করেন। তিনি তো সুমহান প্রজ্ঞাময়। (সূরা শুরা : ৫১)

২.ওহীর মাধ্যমে কুরআন প্রেরণ করা

الٓرٰ تِلْكَ اٰیٰتُ الْکِتٰبِ الْمُبِیْنِ ﴿۱﴾ اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ  قُرْءٰنًا عَرَبِیًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُوْنَ ﴿۲﴾  نَحْنُ نَقُصُّ عَلَیْكَ اَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ هٰذَا الْقُرْاٰنَ وَ اِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهٖ لَمِنَ الْغٰفِلِیْنَ ۳

অর্থ: আলিফ লাম-রা. এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের কুরআনের আয়াত। নিশ্চয়ই আমি একেই আরবী কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি। যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি তোমার নিকট সুন্দরতম কাহিনী বর্ণনা করছি। এ কুরআন আমার ওহী হিসেবে তোমার কাছে প্রেরণ করার মাধ্যমে। যদিও তুমি এর পূর্বে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সুরা ইউসুফ : ১-৩)

৩.পবিত্র কুরআন ওহীর মাধ্যমেই এসেছে

اُتْلُ مَاۤ اُوْحِیَ  اِلَیْكَ مِنَ الْکِتٰبِ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ اِنَّ الصَّلٰوۃَ  تَنْهٰی عَنِ الْفَحْشَآءِ  وَالْمُنْکَرِ وَلَذِكْرُ اللّٰهِ اَكْبَرُ وَاللهُ یَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ ۴۵

অর্থ: আপনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যে কিতাব কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত করুন। এবং সালাত কায়েম কর। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্বরুণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহ জানেন যা তোমরা করো। (সূরা আনকাবুত : ৪৫)

৪.জীবরাঈল (আ.) নবী করীম (সা)-এর নিকট ওহী নিয়ে আসতেন

وَ اِنَّهٗ  لَتَنْزِیْلُ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۹۲﴾  نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِیْنُ ﴿۱۹۳﴾  عَلٰی قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِیْنَ ﴿۱۹۴﴾  بِلِسَانٍ عَرَبِیٍّ مُّبِیْنٍ ۱۹۵

অর্থ: নিশ্চয়ই এ কুরআন সৃষ্ঠিকুলের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন বিশ্বস্ত আত্মা জিবরাঈল (আ.)। আপনার হৃদয়ে যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এ কুরআন নাযিল করা হযেছে সুস্পষ্ঠ আরবী ভাষায়। (সূরা শুয়ারা : ১৯২-১৯৫)

রোজা ভঙ্গের কারন

৫.আল্লাহ তায়ালাই ওহী প্রেরণ করেন

حٰمٓ ۚ﴿۱﴾ عٓسٓقٓ ﴿۲﴾ کَذٰلِكَ یُوْحِیْۤ  اِلَیْكَ وَ اِلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكَ اللهُ الْعَزِیزُ الْحَکِیْمُ ۳

অর্থ: হামীম, আইন সীন কাফ। এমনিভাবে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তিগণের কাছে ওহী প্রেরণ করেন। (সূরা আশশুরা : ১-৩)

৬.ফেরেশতাগণ আল্লাহর নির্দেশে ওহী নিয়ে আসেন

یُنَزِّلُ الْمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوْحِ مِنْ اَمْرِه عَلٰی مَنْ یَّشَآءُ مِنْ عِبَادِه اَنْ اَنْذِرُوْۤا اَنَّه لَاۤ اِلٰهَ  اِلَّاۤ  اَنَا فَاتَّقُوْنِ ۲

অর্থ: তিনি স্বীয় নির্দেশে ফেরেশতাগণ কে ওহি দিয়ে প্রেরণ করেন। তার বান্দাদের মধ্যে যাকে তার কাছে, যেন তোমরা সর্তক করো যে, আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। অতএব তোমরা আমাকে ভয় করো। (সূরা নাহল : ২)

৭. পুরুষদের মধ্য থেকেই নবী রাসূলগণের আগমন

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوْحِیْۤ  اِلَیْهِمْ مِّنْ اَهْلِ الْقُرٰی اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا کَیْفَ کَانَ عَاقِبَۃُ  الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَدَارُ الْاٰخِرَۃِ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ اتَّقَوْا  اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ۱۰۹

অর্থ: আর আমি তোমার পূর্বে অধিবাসি থেকে পুরুষদেরকেই কেবল রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি। যাদের উপর আমি ওহি প্রেরণ করতাম। তারা কি যমীনে বিচরণ করে না। তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে? তাকওয়া আবলম্বন কর, তাদের জন্য আখেরাতে আবাসনই উত্তম। তবুও কি তোমরা বুঝ না। (সূরা ইউসুফ : ১০৯)

৮.স্বপ্নের মাধ্যমে নবী রাসূলগণের নিকট ওহি আসতো

  فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ  السَّعْیَ قَالَ یٰبُنَیَّ  اِنِّیْۤ اَرٰی فِی الْمَنَامِ اَنِّیْۤ  اَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرٰی قَالَ یٰۤاَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِیْۤ  اِنْ شَآءَ اللهُ مِنَ الصّٰبِرِیْنَ ۱۰۲

অর্থ: অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল। তখন সে বলল হে প্রিয় ছেলে। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করেছি। সুতরাং এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কি? সে বলল হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে। আপনি তাই করুন, আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্য্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। (সূরা সাফফাত : ১০২)

৯.নবী করীম (সা) দ্বীনের প্রতিটি কাজই ওহী মোতাবেক করতেন

وَالنَّجْمِ  اِذَا هَوٰی ﴿۱﴾ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوٰی﴿۲﴾ وَمَا یَنْطِقُ عَنِ الْهَوٰی  ﴿۳﴾ اِنْ  هُوَ  اِلَّا  وَحْیٌ  یُّوْحٰی ۴

অর্থ: কসম নক্ষত্রের যখন তা অস্ত্র যায়। তোমাদের সঙ্গী মুহাম্মদ (সা) পথভ্রষ্ঠ হয়নি। এবং বিপদ গ্রামীও হয়নি। আর সে মনগড়া কথা বলে না। যা বলে তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতিওহী রূপে প্রেরণ করা হয়। (সূরা নাজম : ১-৪) 

১০.নবীজীর উপর ওহীর প্রাথমিক অবস্থা

عَنْ عَائشَةَ رَضِيَ الله عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لا يَرَى رُؤْيَا إِلا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّتْ فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثْمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَة فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ : اقْرَأْ قَالَ : مَا أَنَا بِقَارِئٍ قَالَ : فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهدَ ثُمَّ أَرسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ قُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثْانِيَة حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الجَهدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ : اقْرأ فَقلتُ : مَا أَنَا بِقارِئٍ فَأَخذَنِي فَغَطَّنِي الثَالِثَة ثُمَّ أَرسَلَنِي فقَالَ : اقْرَأ بِاسمِ رَبكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الإنسَان من عَلَقٍ اقْرأ وَرَبُّكَ الأكرَمُ

অর্থ : আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সর্বপ্রথম নিদ্রায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে রাসূল (সা) এর উপর অহী নাযিল শুরু হয়। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা দিবালোকের ন্যায় সত্য বলে প্রকাশিত হত। এক পর্যায়ে তাঁর কাছে নির্জনে সময় কাটানো প্রিয় হতে লাগল। তিনি হেরা গুহায় একাকী বাস করতে থাকলেন এবং পরিবারের নিকট ফেরত আসার পূর্ব পর্যন্ত কয়েক রাত্রি তথায় এবাদতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর তিনি তাঁর পরিবারের নিকট ফেরত আসতেন এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পুনরায় গমণ করতেন। খাদ্য সামগ্রী শেষ হয়ে গেলে তিনি খাদীজার কাছে এসে পুনরায় গমণ করতেন। হেরা গুহায় থাকাবস্থায় তাঁর নিকট অহী নিয়ে জিবরীল ফেরেশতা আগমণ করেন। ফেরেশতা নবী (সা) কে বললেনঃ ’’আপনি পড়ুন’’। উত্তরে তিনি বললেনঃ আমি তো পড়তে জানিনা। নবী (সা) বললেনঃ জিবরীল ফেরেশতা তখন আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরলেন যাতে আমার খুব কষ্ট অনুভব হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে পুনরায় বললেনঃ পড়ুন। উত্তরে আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না। অতঃপর আমাকে দ্বিতীয়বার জড়িয়ে ধরলেনঃ এতেও আমার কষ্ট অনুভব হল। ছেড়ে দিয়ে আমাকে বললেনঃ পড়ুন। আমি বললামঃ আমি পড়তে পারি না। রাস‚লুল্লাহ (সা) বলেনঃ এবার তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ

إقرَأ بِاسمِ رَبكَ الذِي خَلَقَ خَلَقَ الإنسَانَ من عَلَقٍ أقرأ وَرَبُّكَ الأَكرَمُ

(সহীহ বুখারী : ৩)

  اِنَّاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْكَ کَمَاۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی نُوْحٍ وَّالنَّبِیّٖنَ مِنْ بَعْدِهٖ وَاَوْحَیْنَاۤ اِلٰۤی اِبْرٰهِیْمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ وَیَعْقُوْبَ وَالْاَسْبَاطِ وَعِیْسٰی وَاَیُّوْبَ وَیُوْنُسَ وَهٰرُوْنَ وَسُلَیْمٰنَ وَاٰتَیْنَا دَاوٗدَ زَبُوْرًا ۱۶۳

অর্থ: আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরণ করেছি। যেমন করে ওহী পাঠিয়ে ছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত  নবী রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি ইসমাঈল ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব তাঁর সন্তানবর্গের প্রতি এবং ঈসা আইয়ুব ইউনুস, হারুন, সুলাইমানের প্রতি আর আমি দাউদকে দান করেছি যুবুর গ্রন্থ। (সূরা নিসা : ১৬৩)

وَکَذٰلِكَ  اَوْحَیْنَاۤ  اِلَیْكَ رُوْحًا مِّنْ اَمْرِنَا  مَا كُنْتَ تَدْرِیْ مَا الْکِتٰبُ وَ لَا  الْاِیْمَانُ وَ لٰکِنْ جَعَلْنٰهُ  نُوْرًا نَّهْدِیْ  بِه مَنْ نَّشَآءُ  مِنْ عِبَادِنَا وَ اِنَّكَ لَتَهْدِیْۤ  اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۵۲

অর্থ: এমনিভাবে আমি আপনার কাছে এক ফেরেস্তা প্রেরণ করেছি আমার আদেশক্রমে। আপনি জানতেন না, কিতাব কি এবং ঈমান কি? কিন্তু আমি একে করেছি নূর, যার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে থেকে যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করি। নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা শুরা : ৫২)

১১.নবী করীম (সা) ওহি আসার অবস্থার বর্ণনা

عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللّٰهُ عَنْهَا اَنَّ الْحَارٍيْثَ بِنْ هِشَامٍ سَأَلَ النَّبِىُّ ﷺ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْىُ فَقَالَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ ‏ أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ ـ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَىَّ فَيُفصَم عَني وَقَد وَعَيت عَنه مَا قالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ الْملَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ

অর্থ: হযরত আয়শা (রা)  হতে বর্ণিত। হারিস ইবনে হিশাম হুজুর (সা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে, আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কিভাবে আসে? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, ওহী কখনও আমার নিকট ঘুঙুরের (ঘন্টির) শব্দের মত আসে। আর সেটিই আমার নিকট অত্যধিক কষ্ঠদায়ক ওহী। অত:পর সে কণ্ঠ দূর হয়ে যায় এবং এরই মধ্যে ফেরেশতা যা বলেন আমি তা তার থেকে আয়ত্ত করে ফেলি। আবার কখনও ফেরেশতা মানবের আকৃতিতে এসে ওহী নাযিল করেন, আমি তার কথা, শুনি এবং স্মৃতিপটে গেঁথে রাখি।(বুখারী শরীফ : ৩২১৫)

১২.নবীজীর ওহি আসার বিস্তারিত বিবরণ

عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللّٰهِ (ص) مِنَ الْوَحْىِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ وَكَانَ يَخْلُوْ بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ وَهُوَ التَّعَبُّدُ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاء فَجَاءَه المَلَك فَقَالَ اقرَأ‏ قَالَ ‏مَا أَنَا بِقَارِئٍ‏‏‏ قَالَ ‏فَأَخَذنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهدَ ثُمَّ أَرسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأ‏‏ قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ‏ فَقُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ‏.‏ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ ‏{‏اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ‏}‏‏‏‏ فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللّٰهِ (ص) يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رضى الله عنها فَقَالَ ‏زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي‏ فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي فَقَالَتْ خَدِيجَةُ كَلاَّ وَاللّٰهِ مَا يُخْزِيكَ اللّٰهُ أَبَدًا إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ وَتَقْرِي الضَّيْفَ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ‏‏ فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعِبْرَانِيَّ فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنجِيلِ بِالعِبرَانِيَّةِ مَا شَاءَ الله أَنْ يَكتُبَ وَكَانَ شَيخًا كَبِيرا قَد عَمِيَ فَقَالَت لَهُ خَدِيجَةُ يَا ابنَ عَمِّ اسمَع مِنَ ابنِ أَخِيكَ‏‏ فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللّٰهِ (ص) خَبَرَ مَا رَأَى‏ فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللّٰهُ عَلَى مُوسَى (ص) يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ‏‏ فَقَالَ رَسُولُ اللّٰهِ (ص) أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ قَالَ نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ الْوَحْىُ‏ إِلاَّ عُودِيَ وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا‏.‏ ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ

অর্থ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়শা (রা)  হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুজুর (সা) -এর নিকট সর্বপ্রথম যে, ওহী আসে, তা ছিল নিদ্রার মধ্যে সত্য সপ্ন তিনি যে স্বপ্নেই দেখতেন তা দিবালোকের মত প্রকাশ পেয়ে যেত এইভাবে কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর তাঁর নিকট নির্জন জীবন প্রিয়তম হয়ে উঠল। তাই তিনি হেরা পর্বত গুহায় নির্জনবাস আরম্ভ করলেন। নিজের পরিবারের নিকট ফিরে আসার আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ার পূর্ব সময় পর্যন্ত বেশ কয়েক দিন ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এই উদ্দেশ্যে কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। কয়েকদিন পর আবার খাদিজা (রা) -এর নিকট ফিরে আসতেন, এবং আগের মত কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এমন কি হঠাৎ একদিন তার নিকট প্রকৃত সত্য ওহী আসল, ফেরেস্তা জিব্রাঈল (আ.) তার নিকট এসে বললেন, اَقْرَأْ আপনি পড়েন। হুজুর পাক (সা) বলেন, আমি তো পড়তে পারিনা। তিনি বলেন, অতঃপর ফেরেশতা আমাকে ধরলেন এবং সজোরে আলিঙ্গন বদ্ধ করলেন যে, তাতে আমার কষ্ঠ বোধ হলো। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়েন আমি বললাম, আমি তো পড়তে পারছিনা, নবী করীম (সা) বলেন, অতঃপর ফেরেশতা তৃতীয়বার আমাকে ধরে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করলেন, আমি দারুণভাবে কষ্ঠ বোধ করলাম। তারপর তিনি আমাকে আলিঙ্গন মুক্ত করে, বললেন, আপনি পড়েন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে জমাট রক্ত হতে সৃষ্টি করেছেন। পড়েন, আর আপনার প্রতিপালক সর্বাধিক দয়ালু। হযরত নবী কারীম (সা)-এর আয়াতসমূহ হৃদয়াঙ্গম করত গৃহে ফিরলেন। তার হৃদয় তখন ভয়ে কাপঁতে ছিল। তিনি হযরত খাদিজা বিনতে কুরাইলিদের নিকট ফিরে এসে বললেন, তোমরা আমাকে চাদর দ্বারা ঢেকে ঢাক, আমাকে চাদর দ্বারা ঢাক, আমাকে চাদর দ্বারা ঢাক। তারা তাকে চাদর দ্বারা ঢেকে দিলেন। এমন কি এক সময় যখন তার ভীতি দূর হয় গেল। তখন হযরত খাদীজা (রা)  সব ঘটনা খুলে বললেন আর বললেন যে আল্লাহর শপথ আমি আমার জীবনে সম্পর্কে সংশয় বোধ করছি। হযরত খাদীজা (রা) তাকে আশ্বস্ত করে বললেন না ভয়ের কোন কারণ নেই। আল্লাহর কসম! তিনি কখনও আপনাকে অপদস্ত করবেন না। কেননা আপনি আপনার আত্মীয়-স্বজনের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন দুস্থ দুঃখীদের সেবা করেন, বঞ্চিত ও অভাবিদের কে আয়ের ব্যবস্থা করেন, অথিতিদের আপ্যায়ন করেন। সত্য পথের বিপন্ন পথিকদের সাহায্য করেন, অতঃপর হযরত খাদিজা (রা)  তাকে সাথে নিয়ে চললেন। এবং খাদিজার চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনে নাওফাল ইবনে আসয়াদ ইবনে আব্দুল উজ্জার নিকট নিয়ে আসলেন, তিনি জাহিলীয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম-গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় কিতাব লিখতেন। আল্লাহর মর্যী অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজিলের ইবরানী ভাষায় অনুবাদ করতেন। তিনি এ বেশী বয়োবৃদ্ধ ছিলেন যে, প্রায় অন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলেন। হযরত খাদিজা (রা)  তাকে বললেন, হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন ওরাকা ইবনে নওফাল ডেকে বললেন হে ভ্রাতুস্পুত্র! কি দেখেছো হুজুর (সা) যা দেখেছেন তার বিবরণ তার নিকট ব্যক্ত করলেন। ওরাকা তাকে বললেন ইনি সেই সহস্য ভেদী জিবরাইল ফেরেশতা যাকে আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা (আ.)-এর নিকট পাঠিয়ে ছিলেন হ্যায়। সেই সময় যদি আমি শক্তিশালী যুবক থাকতাম যে, দিন আপনি আল্লাহর বাণী প্রচার করবেন, হায়! সে সময় আমি যদি জীবত থাকতাম, যে সময় আপনার গোত্রের লোকেরা আপনাকে দেশান্তরিত করবে নবী করীম (সা) বললেন, তারা কি আমাকে সত্যিই দেশান্তরিত করবে? তিনি বললেন হ্যাঁ আপনি যা নিয়ে এসেছেন এরূপ সত্য বিষয় ইতিপূর্বে যিনিই নিয়ে এসেছেন তাঁর সাথেই শত্রুতা পোষণ করা হয়েছে। যদি আমি আপনার ধর্ম প্রচারের যুগ পাই তবে আপনার যথাসাধ্য সাহায্য করব। তারপর বেশী দিন অতীত হলো না, ওয়ারাকা ইন্তিকাল করলেন এবং ওহীও কিছু দিন বন্ধ থাকল। (বুখারী শরীফ : ৩)

১৩.সিরাতে মুস্তাকিম সঠিক পথ কোনটি?

اِنَّ اللهَ رَبِّیْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ  هٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌ ۵۱

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা তার ইবাদত কর, এটাই হল সিরাতে মুস্তাকিম বা সরল পথ। (সূরা আল ইমরান : ৫১)

وَاَنَّ هَذَا صِرَاطِيْى مُسْتَقِيْمًا فَاتَّبِعُوْهُ وَلاَ تَتَّبِعُوْا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيَلِهِ ذٰلِكُمْ وَصّٰكُمْ بِهِ لَعَّلَكُمْ تَّتَّقُوْنَ وَ اَنَّ هٰذَا صِرَاطِیْ مُسْتَقِیْمًا فَاتَّبِعُوْهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِیْلِهٖ ذٰلِكُمْ  وَصّٰكُمْ بِهٖ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ ۱۵۳

অর্থ: আর এ পথই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করো। এ পথ ছাড়া অন্যান্য কোন পথের অনুসরণ করোনা, অন্যথায় তোমাদেরকে তারপথ থেকে বিছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেবে। আল্লাহর তোমাদের কে এই নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা বেঁচে থাকতে পার।  (সূরা আনআম : ১৫৩)

وَمَنْ یَّعْتَصِمْ بِاللّٰهِ فَقَدْ هُدِیَ  اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ﴿۱۰۱

অর্থ: আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের। (সূরা আল ইমরান : ১০১)

وَالَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا صُمٌّ وَّ بُكْمٌ فِی الظُّلُمٰتِ مَنْ یَّشَاِ اللهُ  یُضْلِلْهُ وَ مَنْ یَّشَاْ یَجْعَلْهُ  عَلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍ ۳۹

অর্থ: যারা আমার নিদর্শন সমূহকে মিথ্যা বলে তারা অন্ধকারের মধ্যে মৃক বধির, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। (সূরা আনয়াম : ৩৯)

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ  فَخَطَّ خَطًّا وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَسَارِهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الأَوْسَطِ فَقَالَ‏ هَذَا سَبِيلُ اللّٰهِ ‏‏. ‏ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ ﴿وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلاَ تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ﴾

অর্থ: হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সা)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি প্রথমে একটি সোজা রেখা টানলেন এবং তার ডানদিকে দুটো রেখা টানলেন এবং বাঁ দিকে ও দুটো রেখা টানলেন। এরপর তিনি রেখার মধ্যবতি স্থানে হাত রেখে বললেন, এটা আল্লাহর রাস্তা, এরপর এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: وَاَنَّ هٰذَا صِرَاطِيْ مُسْتَقِيْمًا “আর এটা আমার সরল পথ সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর এবং ভিন্ন পথ অনুসরণ করোনা, অন্যথায় তা তোমাদের তার পথ থেকে বিছিন্ন করবে” (ইবনে মাজাহ : ১১)